প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল হজম করে বিপদে পড়ে তারা। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে হুগো ব্রুসের দল। এই ড্রয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ টিকে রইল দুই দলেরই।
একাদশে বড় পরিবর্তন
চেক প্রজাতন্ত্র আজ একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন আনে। ওয়েস্ট হ্যামের তারকা মিডফিল্ডার টমাস সুচেক, জেলেনি, প্রোভোদ ও শুলৎসদের বেঞ্চে বসিয়ে হোলেশ, দারিদা, চের্ভ ও মিখাল সাদিলেকদের সুযোগ দেন চেক কোচ। অন্যদিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকার শেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জোয়ানে নিষিদ্ধ ছিলেন। বাধ্য হয়ে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে এমবাথা, মাসেকো ও অ্যাপোলিসকে নামান কোচ হুগো ব্রুস।
ম্যাচের বিবরণ
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতে না বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চেক প্রজাতন্ত্র। ফলশ্রুতিতে ষষ্ঠ মিনিটেই লিড নেয় ইউরোপের দলটি, যা চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল। ডান প্রান্ত ধরে বাড়ানো লম্বা থ্রো তাড়া করে বল নিয়ন্ত্রণে নেন চেক ফরোয়ার্ড অ্যাডাম হ্লোজেক। এরপর ডি-বক্সে বল বাড়িয়ে দিলে সোইকার সঙ্গে ওয়ান-টু করে গোল করেন মিখাল সাদিলেক। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমার্ধের বিরতির আগে সুবর্ণ সুযোগ পেলেও চেক ডিফেন্ডারদের বাধায় তা ভেস্তে যায়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঝবিরতিতে যায় চেক প্রজাতন্ত্র।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফিরতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৭ মিনিটে চেক তারকা প্যাট্রিক শিকের হেড রুখে দেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। এরপর আক্রমণের ধার বাড়াতে বদলি হিসেবে এভিডেন্স মাকগোপাকে নামান ব্রুস। ৭৩ মিনিটে মাকগোপার হেড কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন চেক গোলরক্ষক।
শেষ মুহূর্তের নাটক
ম্যাচের ৮০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। থাপেলো মাসেকোর শট ডি-বক্সের ভেতর হাত দিয়ে ব্লক করেন চেকের বদলি ডিফেন্ডার পাভেল শুলৎস। রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৮২ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উল্লাসে ভাসান তেবোহো মোকোয়েনা। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতা নিয়েই শেষ হয় ম্যাচ।



