ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: শাকিরা থেকে লিসা, ৫০ গানের প্লেলিস্ট
কানাডার টরন্টোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উন্মাদনা বাড়াতে এবার নতুন গান নিয়ে হাজির কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরাসহ একঝাঁক তারকা শিল্পী। প্রতি বিশ্বকাপের মতো এবার আর একটি ‘অফিশিয়াল গান’ থাকছে না। বরং বিশ্বকাপকে উপলক্ষ করে ফিফা রিলিজ করেছে অফিশিয়াল প্লেলিস্ট ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’, যেখানে আছে ৫০টি গান।
তিন আয়োজক দেশের সংস্কৃতির প্রতিফলন
এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিনটি ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে ফিফা প্রকাশ করেছে পুরো একটি অ্যালবাম। বিশ্বকাপের প্রথম গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছিল ‘লাইটার’, যা পপ ও কান্ট্রি মিউজিকের মিশ্রণে তৈরি। মেক্সিকান র্যাপার, মার্কিন র্যাপার জেলি রোল ও মেক্সিকান গায়ক কারিন লিওন মিলে গেয়েছিলেন প্রথম গান। তবে সেটা নিয়ে হতাশই হয়েছেন শ্রোতারা।
অ্যালবামের দ্বিতীয় গান ‘পর অ্যায়া’ বেশ সাড়া ফেলেছে মেক্সিকানদের মধ্যে। মেক্সিকোর ঐতিহ্য আর ফুটবল সংস্কৃতি উঠে এসেছে এই গানের মাধ্যমে। আইকনিক মেক্সিকান কুম্বিয়া ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস ও পপ তারকা বেলিন্ডার রসায়ন পছন্দ করেছেন শ্রোতারা।
‘গোলস’ ও ‘দাই দাই’ সেরা আকর্ষণ
তৃতীয় হার হিসেবে মুক্তি পেলেও ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টের এক নম্বরে রয়েছে ‘গোলস’। কে-পপ, আফ্রোবিটস ও লাতিন পপের এক চমৎকার মিশেলে তৈরি গানটি। জনপ্রিয় তিন তারকা লিসা, অনিতা ও রেমা একসঙ্গে গানটি গেয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হবে গানটি।
প্লেলিস্টের ২ নম্বরে রয়েছে পপ তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ান শিল্পী ও আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়ের ‘দাই দাই’। বিশ্বকাপের আমেজ যেন তৈরিই হয়েছে শাকিরার গান দিয়ে। চার মিনিটের এই ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায় লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ডের মতো তারকা ফুটবলাররা। মেক্সিকোর বিখ্যাত ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ থেকে শুরু করে মরুভূমির বালুতে আফ্রিকান শিশুর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন শাকিরা।
শাকিরার তৃতীয় বিশ্বকাপ গান
‘দাই দাই’ গান দিয়ে শাকিরা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে গান গাওয়ার সুযোগ পেলেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য ‘লা লা লা’ গান মাতিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্ব। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ফাইনালের হাফটাইম শো। এই জমকালো অনুষ্ঠানে ম্যাডোনা ও বিটিএসের সঙ্গে প্রধান শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করবেন শাকিরা।
প্লেলিস্টের অন্যান্য গান
‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টের অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে ড্যাডি ইয়াংকি ও শেনসিয়ার গাওয়া ‘ইকো’ গানটি। এ ছাড়া ফিউচার, টাইলা ও ফিফা সাউন্ডের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ‘গেম টাইম’ গানটিও এই প্লেলিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। তবে সবাইকে অবাক করেছে জনপ্রিয় স্ট্রিমার ‘আইশোস্পিড’-এর ‘চ্যাম্পিয়নস’ গানটি। খুব দ্রুতই ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি। অনেকের কাছেই বিশ্বকাপের আসল উন্মাদনা খুঁজে পেয়েছে এই গানের বিট। জনপ্রিয়তা দেখে ফিফা নিজেদের প্লেলিস্টে যোগ করেছে গানটি।
ভক্তদের নিজস্ব উদ্যোগ
বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনেক দলের ভক্তরা নিজ উদ্যোগে আনঅফিশিয়াল হিপহপ গানও বানিয়েছেন। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ফুটবলপ্রেমীরা এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এই গানগুলো তৈরি করছেন। ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ ভাইরাল হয়েছে গানগুলো। তবে অনেকেরই মনে ধরেনি বিশ্বকাপের গানগুলো। তাদের কাছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রিকি মার্টিনের গাওয়া ‘দ্য কাপ অব লাইফ’, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কে’নানের গাওয়া ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ এখনো মানুষের মুখে মুখে বাজে। গুনগুনিয়ে বিশ্বকাপ এলে সেই গানের সুরই বাঁধেন তাঁরা। তবে সময়ের সঙ্গে বিশ্বকাপের গানের সুর যতই বদলাক না কেন, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গান ছাড়া যেন বিশ্বকাপ চলেই না।



