পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য আগামীকালের বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচটি শেষ নাচ নয়। বরং তিনি আশা করেন, এই ম্যাচটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের আরও একটি ধাপ মাত্র।
দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য লাস্ট ড্যান্স
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচটি ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে রোনালদো (৩৯) ও মদ্রিচের (৪০) বয়স ও সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে। নকআউট পর্বে হারলেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে একটি দল। তাই অনেকেই এই ম্যাচকে দুই কিংবদন্তির ‘লাস্ট ড্যান্স’ হিসেবে দেখছেন।
মার্তিনেজের বক্তব্য
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা এমন দুই ফুটবলারের কথা বলছি, যারা সাধারণ মানুষের সমালোচনা কিংবা জনমতের অনেক ঊর্ধ্বে। ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকাই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। লুকা মদ্রিচ ৪০ বছর বয়সেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমাদের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বয়স নিয়ে কথা বলেন, তাদের বলব, বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, মাঠে তারা কী করছেন এবং ড্রেসিংরুমে তরুণদের জন্য কী উদাহরণ তৈরি করছেন। তারা ফুটবলের আইকন। আশা করি, এটা রোনালদোর লাস্ট ড্যান্স হবে না।’
পর্তুগালের গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স
গ্রুপ ‘কে’ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে তারা। আগামীকাল মাঠে নামলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ২৫তম ম্যাচ খেলবেন রোনালদো। তবে নকআউট পর্বে আগের আট ম্যাচে গোলশূন্য থাকার রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে তার সামনে।
দলের প্রতি আস্থা
গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশামতো ছন্দে না থাকলেও নিজের দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে প্রতিভা আছে, ঐক্য আছে, মানসিক শক্তিও আছে। গ্রুপ পর্বে কঠিন মুহূর্তগুলোতে যেভাবে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা অসাধারণ। বিশেষ করে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও হার না মানা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আসল বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এখন থেকেই।’
দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু রোনালদোর জন্যই নয়, ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচের জন্যও হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলা এই দুই কিংবদন্তি এবার একে অপরের প্রতিপক্ষ। নকআউটের এই ম্যাচটি হতে পারে দুই যুগের দুই কিংবদন্তির আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। একজন এগিয়ে যাবেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে, আর অন্যজনের জন্য হয়তো বিশ্বকাপের পর্দা নেমে যাবে চিরতরে।



