বিশ্বকাপে কখনো ইতিহাস মাঠে নামে প্রিয় জার্সি পরে, আবার কখনো ভবিষ্যৎ আসে কোনো পরিচিতি ছাড়াই। পর্তুগাল ও উজবেকিস্তানের ম্যাচটি ঠিক তেমনই। একদিকে বহু বিশ্বকাপের আলো-অন্ধকার পেরিয়ে আসা ইউরোপের শক্তিধর দল, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা মধ্য এশিয়ার এক নতুন স্বপ্ন। শুধু তিন পয়েন্টের না, ম্যাচটি মর্যাদা, বিশ্বাস আর টিকে থাকার যুদ্ধ।
পর্তুগালের চাপ ও রোনালদোর শেষ অধ্যায়
পর্তুগালের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বড় তারকা, নিখুঁত পাস, নিয়ন্ত্রিত ফুটবল আর শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জিতে নেওয়ার দক্ষতা। যদিও বিশ্বকাপ ফুটবল সব সময় নামের কাছে মাথা নত করে না। প্রথম ম্যাচেই সেটা টের পেয়েছে পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে এমন এক নির্মমতার মুখোমুখি হয়েছে, যা কল্পনাতেও আসেনি। জোয়াও নেভেস গোল করে এগিয়ে দিলেও সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। আক্রমণে ধার কমে যায়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হয়।
এই ড্রয়ের পর গ্রুপের হিসাব বদলে গেছে। এখন উজবেকিস্তানকে হারাতেই হবে। আরেকটি পয়েন্ট হারানো মানেই নকআউটের পথ কঠিন হয়ে যাওয়া। পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস দীর্ঘ হলেও সবসময় সুখের নয়। ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান পাবার পর বহুবার বড় প্রত্যাশা নিয়ে এলেও ট্রফি অধরা থেকে গেছে। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল, পরের আসরগুলোতে মাঝেমধ্যে আলো, মাঝেমধ্যে হতাশা। বিশ্বকাপ এলেই পর্তুগালকে আবারও সম্ভাবনার তালিকায় রাখা হয়।
এই দলের সবচেয়ে বড় আবেগ এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সময়, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু রোনালদো মানে পর্তুগালের আবেগ। বিশ্বকাপে রোনালদোর হয়ত শেষ মঞ্চ। প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তার প্রতি আস্থা রেখেছেন। রোনালদোর পাশে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, পেদ্রো নেতোদের মতো ফুটবলাররা। বিশেষ করে কনসেইসাওকে নিয়ে রয়েছে অন্য রকম শিহরন। তিনি বাবার অসমাপ্ত বিশ্বকাপ স্মৃতিকে নতুনভাবে লিখতে চাইছেন।
উজবেকিস্তানের স্বপ্নযাত্রা
অন্যদিকে উজবেকিস্তান অনেক বেশি নীরব। বহু বছর ধরে খুব কাছে গিয়েও বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি। হতাশা, অল্পের জন্য বাদ পড়া, অপেক্ষার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু ফুটবল অর্জন নয়, পুরো দেশের ইতিহাস।
প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও স্কোরলাইন ম্যাচের পুরো চিত্র বলে না। ম্যাচে তারা সমতায় ফিরেছিল, লড়েছিল, সাহস দেখিয়েছিল। কিন্তু বড় দলের অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। এখন তাদের সামনে আরেকটি পাহাড় পর্তুগাল।
উজবেকিস্তানের আক্রমণের ভরসা এলদর শোমুরোদভ। রক্ষণে আছেন আবদুকোদির খুসানোভ। কৌশলগতভাবে ম্যাচটি হতে পারে বল দখল বনাম প্রতিরোধের লড়াই। পর্তুগাল শুরু থেকেই আক্রমণ করবে, জায়গা তৈরি করবে, প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখতে চাইবে। উজবেকিস্তান অপেক্ষা করবে সেই একটি মুহূর্তের জন্য। একটি দ্রুত পালটা আক্রমণ, একটি ভুল, অথবা একটি নিখুঁত সেটপিস।
ম্যাচের সম্ভাব্য গতিপথ
কাগজে-কলমে পর্তুগাল অনেক এগিয়ে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানে কখনো নাম জেতে, কখনো সাহস। পর্তুগাল নামবে নিজেদের টিকানোর জন্য। উজবেকিস্তান নামবে নিজেদের প্রথম ইতিহাস লেখার জন্য।



