প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান মঙ্গলবার মাদকাসক্তি মোকাবিলায় যুবকদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও উদ্ভাবনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করে একটি উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
যুবশক্তিকে ইতিবাচক পথে পরিচালনার গুরুত্ব
ঢাকাস্থ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবকদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকাসক্তি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন
তারিক রহমান বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকদের শারীরিক ও মানসিক সম্ভাবনা রয়েছে, যা খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত। তবে তিনি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মাঠের ঘাটতিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সরকারের নেওয়া উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রতিভা উৎসাহিত করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি জানান, সব সম্প্রদায় ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে অনুরূপ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃজনশীলতা বিকাশে জোর
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা বিকাশে বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও সারা বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সামাজিক মূল্যবোধ ও ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী স্কুল পর্যায় থেকে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সচেতনতা প্রচারে তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সরকারি উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।



