কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের হার উদ্বেগজনক। ফ্রান্স-মরক্কো সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস শুধু ম্যাচের ফলাফলেই প্রভাব ফেলেনি, বরং ফুটবল বিশ্বে আবারও আলোচনায় এনেছে পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল। এমবাপ্পে তাঁর শট নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে থমকে যান, যা আধুনিক ফুটবলে একটি জনপ্রিয় কৌশল। কিন্তু এই কৌশল কি এখন গোলরক্ষকদের কাছে ধরা পড়ে গেছে?
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস: কী ঘটেছিল?
গতকাল রাতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে শট নেওয়ার জন্য দৌড়ে এসে ইয়াসিন বুনুর দিকে তাকিয়ে থমকে যান। বুনু সহজেই তাঁর বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে টাইব্রেকারসহ মোট ২৬টি পেনাল্টি নেওয়া হয়েছে এই থমকে যাওয়া কৌশলে; এর মধ্যে ১১টিতেই গোল আসেনি। অর্থাৎ সফলতার হার মাত্র ৫৭ শতাংশ।
থমকে যাওয়া কৌশলের সফলতা কমছে
আর্সেনাল কিংবদন্তি ইয়ান রাইট আইটিভিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে থমকে যাওয়ার কৌশল গোলরক্ষকেরা ধরে ফেলেছেন। তাঁরা এ ধরনের শটের গতিপ্রকৃতি বেশ ভালোভাবেই বুঝে গেছেন।’ অন্যদিকে, স্বাভাবিক গতিতে দৌড়ে নেওয়া ৩৫ পেনাল্টির মধ্যে ২৪টিতে গোল হয়েছে, যা ৬৮ শতাংশ সফলতা। পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে থমকে যাওয়া কৌশলটি আগের মতো কার্যকর নয়।
বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের রেকর্ড
এবারের বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে পেনাল্টি মিসের হার ৩০ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান রাখা শুরুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টাইব্রেকারসহ হিসাব করলে মিসের হার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পের এটি দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। জাতীয় দলে ১৬টি পেনাল্টির ১৪টিতেই গোল করেছেন তিনি; ক্লাব ফুটবলে ৬২টি পেনাল্টিতে ৫০ গোল।
ইয়াসিন বুনু: পেনাল্টি সেভের রাজা
মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বুনু বিশ্বকাপে টাইব্রেকারসহ ৯টি পেনাল্টির মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে মাত্র দুটিতে গোল হজম করেছেন। বাকি ৭টির মধ্যে ৪টি সেভ, ২টি পোস্টে লেগেছে এবং ১টি পোস্টের বাইরে ছিল। টাইব্রেকারসহ বুনু এখন বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পেনাল্টি সেভ করা গোলকিপার, যার আগে টনি শুমাখার, গয়কোচিয়া, ক্যাসিয়াস ও লিভাকোভিচ ছিলেন।
দীর্ঘ অপেক্ষা: স্ট্রাইকারের শত্রু
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের আরেকটি কারণ হতে পারে দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিএআর হস্তক্ষেপের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজার পর থেকে শট নিতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড। আয়ারল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার রয় কিন আইটিভিকে বলেন, ‘৩ মিনিটের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করানো অন্যায়। এমন মুহূর্তে সময় হলো স্ট্রাইকারদের প্রধান শত্রু।’ ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে নিজেও স্বীকার করেন, ‘আমি কিক নেওয়ার চেষ্টা করছি, ঠিক তখনই রেফারি বললেন, এটা পেনাল্টি নয়... শেষ পর্যন্ত আমি মনোযোগ হারিয়ে ফেলি।’



