ডায়াবেটিস রোগীর জন্য আতপ নাকি সেদ্ধ চাল ভালো? পুষ্টিবিদের মতামত
ডায়াবেটিসে আতপ না সেদ্ধ চাল? পুষ্টিবিদের পরামর্শ

ডায়াবেটিস থাকলেই ভাত খাওয়া বন্ধ করতে হবে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরিমিত মাত্রায় এবং সঠিক চাল বাছাই করলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারেন। পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যালের মতে, আতপ চালের তুলনায় সেদ্ধ চাল ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশি নিরাপদ, তবে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো পারবয়েল্ড চাল।

ডায়াবেটিস ও ভাত খাওয়ার ভুল ধারণা

অনেকেই মনে করেন শুধু চিনি খেলেই রক্তে শর্করা বাড়ে, কিন্তু বাস্তবে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও, পরিমিত পরিমাণে ভাত খাওয়া নিরাপদ। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে নজর দেওয়া জরুরি।

আতপ চাল বনাম সেদ্ধ চাল: পুষ্টিগত পার্থক্য

বাঙালির রান্নাঘরে সাধারণত দুই ধরনের চাল দেখা যায়—আতপ চাল ও সেদ্ধ চাল। আতপ চালে ভিটামিন বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) অনেক বেশি। অন্যদিকে, সেদ্ধ চাল তৈরির সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, যা এর জিআই তুলনামূলকভাবে কমিয়ে দেয়। পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল বলেন, "সেদ্ধ চাল তৈরির সময় তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়, সেই তুলনায় আতপ চালে তেমন প্রক্রিয়া করা হয় না। আতপ চালে ভিটামিন বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি থাকে। ফলে সুগারের রোগীর জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে আতপ চালের বদলে সেদ্ধ চাল রাখাই ভালো।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পারবয়েল্ড চাল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেরা পছন্দ

সেদ্ধ চালের চেয়েও বেশি উপকারী হলো পারবয়েল্ড চাল। এটি তৈরির পদ্ধতি ভিন্ন—ধানের খোসা ছাড়ানোর আগে চালকে আংশিকভাবে সেদ্ধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চালের ওপরের স্তরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দানার ভেতরে পৌঁছে যায়, ফলে সাধারণ সাদা চালের তুলনায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। পারবয়েল্ড চালে থায়ামিন, নিয়াসিন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বজায় থাকে, যা স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতায় সহায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পারবয়েল্ড চালের গ্লাইসেমিক সূচক সাধারণ সেদ্ধ চালের চেয়েও কম, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

পরিমিত মাত্রা ও সঠিক চাল বাছাইয়ের গুরুত্ব

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুধু চালের ধরনই নয়, পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে পরিমিত মাত্রায় পারবয়েল্ড চালের ভাত রাখা নিরাপদ। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।