পেলে অব প্যালেস্টাইন ও মেসি অব গাজার স্মৃতি: বিশ্বকাপে দেখা যেত যাদের
পেলে অব প্যালেস্টাইন ও মেসি অব গাজার স্মৃতি

শুরু হয়েছে 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। উৎসবে মেতে উঠেছে ফুটবল বিশ্ব। অথচ এই উদ্‌যাপনের বাইরে থেকে গেছেন শত শত নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ, যাঁদের থাকার কথা ছিল মাঠে কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে গ্যালারিতে এই উৎসবের অংশ হয়ে। ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের স্মরণে তাই শুরু হয়েছে নতুন এক আন্তর্জাতিক প্রচারণা।

নিহত ফুটবলারদের স্মরণ

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি নারী ও পুরুষ ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৪০ জন ফুটবলার। অনেকেই গুরুতর অঙ্গহানির শিকার হওয়ায় আর কখনও খেলাধুলায় ফিরতে পারবেন না। একই সঙ্গে গাজার ৪২টি ক্রীড়া-স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় নিহত ক্রীড়াবিদ, কোচ ও রেফারিদের স্মরণে বিভিন্ন পোস্টার ও তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে স্থান পেয়েছেন 'পেলে অব প্যালেস্টাইন' নামে পরিচিত ফিলিস্তিনি জাতীয় দলের সাবেক তারকা সুলেইমান আল-আবিদ আর গাজার উদীয়মান ফুটবলার মোহাম্মদ রামিজ আল-সুলতান; যিনি 'মেসি অব গাজা' নামে পরিচিত ছিলেন। আরও আছেন অনেকেই। ইসরায়েলি হামলায় নিহত না হলে এই ফিলিস্তিনি ফুটবলারদেরকেও হয়তো একদিন দেখা যেত বিশ্বকাপে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুলাইমান আল আবিদ

ফিলিস্তিনের ফুটবল লিজেন্ডকে পেলে অব প্যালেস্টাইন বলা হতো। ২০২৫-এর ৬ আগস্ট খান ইউনিসে ত্রাণের জন্য অপেক্ষমান অবস্থায় মারা যান তিনি ইসরায়েলি এয়ারস্ট্রাইকে।

মোহাম্মদ রামিজ আল সুলতান

আল হিলাল ক্লাবে খেলত মেসি অব গাজা নামে পরিচিত এই অত্যন্ত মেধাবী ফুটবলার। ১৫ বছর বয়সে পরিবারের ১৪ জন সদস্যসহ মারা যায় সে ইসরায়েলের হামলায় ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।

হামদান ইমাম কাশতা

রাফায় এক ইসরায়েলি ড্রোনের হামলায় ২০২৫-এর ১২ মার্চ নিহত হন এই ২২ বছরের ফুটবলার। যুদ্ধের ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি শিশুদের ফুটবল খেলা শেখাতেন, মাতিয়ে রাখতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আওদা আল হাতালিন

পশ্চিম তীরের উম আল খায়ের গ্রামের বাসিন্দা এই ফুটবলার ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন, এমন এক প্রতিবাদের সময় ইসরায়েলি সেটলারের হাতে নিহত হন তিনি ২০২৫-এর ২৮ জুলাই।

নাজি আল বাবা

১৪ বছরের এই তরুণ ফুটবলার বড় হয়ে জাতীয় দলে খেলতে চেয়েছিল। হালহুলে বাড়ির পাশে ফুটবল খেলছিল সে। ইসরায়েলি এয়ারস্ট্রাইকে বন্ধুদের নিয়েই মারা যায় সে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর।

মোহাম্মদ আল সাতরি

রাফায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষমান এই ৩৬ বছরের ফুটবলার মারা যান ইসরায়েলের হামলায় ২০২৫-এর ২৩ সেপ্টেম্বর।

অজ্ঞাতনামা ১৫ বছরের ফুটবলার

১৫ বছরের এই ফুটবলার নাবলুসে ইসরায়েলি হামলায় মারা যান ২০২৬-এর এপ্রিলে। তিনি আল কারামাহ ক্লাবে খেলতেন।

সূত্র: রয়া নিউজ, দ্য প্যালেস্টাইন ক্রনিকল