নরওয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমেছে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে
নরওয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমেছে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে। ম্যাচ চলাকালে পুরো নরওয়ে যেন থমকে গিয়েছিল। অসলোর রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, মানুষ টিভির সামনে স্থির হয়ে বসেছিল।

২৮ বছরের অপেক্ষা শেষ

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছিল নরওয়ে। একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে পুরোনো বিশ্বকাপের গল্প শুনে। আরেকটি প্রজন্ম বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। অবশেষে সেই অপেক্ষা শেষ হয়। বিশ্বকাপের মাঠে আবার উড়েছে লাল-সাদা-নীল পতাকা।

পুরো দেশ একসঙ্গে

ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই বদলে যায় দেশের দৈনন্দিন জীবন। অফিসে কাজের ফাঁকে আলোচনা হয় সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে। শিশুরা গায়ে জড়ায় জাতীয় দলের জার্সি। জানালায় ঝোলে পতাকা। শহরের বড় পর্দার সামনে জমতে থাকে মানুষ। সবার মুখে একটি নাম: হলান্ড। ক্লাব ফুটবলে গোলের পর গোল করা সেই ভয়ংকর স্ট্রাইকার একটি দেশের স্বপ্নের সবচেয়ে বড় প্রতীক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একটি দেশের সম্মিলিত অনুভূতি

ফুটবল তখন আর শুধু খেলা থাকে না। ৯০ মিনিটের জন্য সেটি হয়ে ওঠে একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্মিলিত অনুভূতি। একই সময়ে লাখো মানুষ তাকিয়ে থাকে একই দিকে। একই পাসে উত্তেজিত হয়। একই শটে বুক কেঁপে ওঠে। একই গোলে অচেনা মানুষ একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্য সব সময় স্টেডিয়ামের ভেতরে দেখা যায় না। কখনো দেখা যায় হাজার কিলোমিটার দূরের অসলোর ফাঁকা রাস্তায়, কোনো ছোট শহরের ক্যাফেতে, হাসপাতালের করিডরে, অথবা একটি ঘরে যেখানে তিন প্রজন্মের মানুষ পাশাপাশি বসে একটি বলের গতিপথ দেখছে।

স্বপ্নের সমাপ্তি

নরওয়ে বিশ্বকাপে একের পর এক বাধা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রতিটি জয়ের সঙ্গে স্বপ্নটি আরও বড় হয়েছে। কিন্তু ফুটবল সবচেয়ে বেশি নির্মম হয় তখনই, যখন স্বপ্ন সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ বাঁশি যখন বাজল, স্কোরবোর্ডে লেখা নরওয়ে ১-ইংল্যান্ড ২। বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জীবন আবার শুরু

ধীরে ধীরে আবার জীবন শুরু হলো। অসলোর রাস্তায় গাড়ি নামল, রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু হলো, মানুষ ফিরে গেল নিজের ব্যস্ততায়। সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে। তবে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে একটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। হলান্ডের দল এমন একটি স্মৃতি তৈরি করেছে, হয়তো কোনো বাবা একদিন তার সন্তানকে বলবেন, '২০২৬ সালে আমরা আবার বিশ্বকাপে ফিরেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম।'

বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ে বিদায় নিয়েছে। তবে একটি দেশের ফুটবল আবার জেগে উঠেছে।