বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার (09.07.2026)

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর নকআউট পর্বে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) মিশন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এই অপ্রত্যাশিত ও চরম হতাশাজনক বিদায়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে দিলেন ব্রাজিলের আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।

অশ্রুসিক্ত বিদায়

১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম এই বিদায়ের রাতে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। ম্যাচ শেষেই তিনি জাতীয় দল থেকে নিজের বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে আবেগাপ্লুত নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি। অনেক চেষ্টা করেছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকেই (জাতীয় দলের হয়ে) আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এখানেই আমি শেষ করলাম। আমার আন্তর্জাতিক অধ্যায় এখানেই শেষ।”

বাবার আবেদন

এমন কঠিন সময়ে ছেলের মান ভাঙাতে এবং ক্লাব ফুটবলেও যেন তিনি খেলা চালিয়ে যান, সে জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অশ্রুসিক্ত খোলা চিঠি লিখেছেন নেইমারের বাবা। চিঠিতে তিনি লেখেন, “তোমার কাছে আমার একটাই অনুরোধ নেই (নেইমার): প্লিজ, ফুটবল খেলাটা চালিয়ে যাও।” তিনি ছেলেকে এই চরম মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং মনে করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও ফুটবল মাঠে তাঁর গৌরবময় উত্তরাধিকার এখনও অনেক বাকি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন রেকর্ড

বিদায়ের রাতটি নেইমারের জন্য চরম ট্র্যাজিক হলেও, এই ম্যাচেই তিনি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ম্যাচের শেষভাগে নরওয়ের বিপক্ষে স্পট-কিক থেকে পেনাল্টি গোল করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৮০টি গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর মাধ্যমে কিংবদন্তি ফুটবল সম্রাট পেলেকে (৭৭ গোল) টপকে সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি পাকাপাকিভাবে নিজের করে নিলেন নেইমার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধরা স্বপ্ন

দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১৩০টি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। যেখানে ৮০টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। কিন্তু ব্রাজিলের হয়ে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অধরা স্বপ্নটি অপূর্ণই থেকে গেল এই মহানায়কের। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের জার্সিতে হয়তো আর দেখা যাবে না ‘নম্বর টেন’কে, তবে তাঁর বাবার এই আকুল আবেদন মেনে নেইমার ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যান কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।