ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী রোববার (২১ জুন) কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার জানিয়েছে, এই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক নয়; কর্মচারীরা চাইলে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু বাধ্য নন।
আদালতের নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিটি চ্যালেঞ্জ করে বামফ্রন্টের সরকারি কর্মচারী সমিতি আদালতে আবেদন করে। আবেদনকারীদের পক্ষে সিপিআইএমের সাবেক সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, সরকার কাউকে যোগব্যায়ামে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না। তিনি আদালতে বলেন, ‘আমি যা করতে পছন্দ করি না, সরকার আমাকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে না। এটি ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।’
রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, বিজ্ঞপ্তিটি কেবল কর্মচারীদের উৎসাহিত করার জন্য ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল রেড রোডে যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানে বৃহত্তম অংশগ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়া। তিনি আরও বলেন, যারা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি নির্দেশটি একটি সাধারণ আবেদন মাত্র, এটি বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত কারণে কেউ উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর কলকাতার প্রধান সড়ক রেড রোড সাত দিন বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়ামের পরিকল্পনা করেছিল রাজ্য সরকার। জলে ও স্থলে উভয় জায়গাতেই বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যোগব্যায়ামকে দেশে ও বিদেশে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রতিবছর যোগ দিবসে তিনি প্রকাশ্যে যোগ চর্চা করেন, যা ভারতীয় প্রচারমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।



