দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হেরে সিরিজ হারল বাংলাদেশ
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হেরে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। বিসিবির দল ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত ৭ রানের হারে সিরিজ খুইয়েছে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।

ম্যাচের শুরু

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। তিন ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু লক্ষ্য এত বড় ছিল যে পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তারা অনেকটা সময় ম্যাচে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ তিন বলে ১৮ রানের সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। চোটে পড়া লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা মেরে আশা জাগান। কিন্তু পরের বলে চার মেরে শেষ বলে তিনি ক্যাচ দেন বাউন্ডারি লাইনের কাছে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ও ব্যাটিং

ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও আজ বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করেছিল। শরীফুল ইসলামের বদলে নাহিদ রানা আর মেহেদী হাসানের জায়গায় সুযোগ পান নাসুম আহমেদ। দুজনেই ইনিংসের চার ওভার পেরোনোর আগে উইকেট পেয়েছেন। ১১ বলে ৬ রান করা জশ ইংলিসকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম, ফর্মে থাকা কুপার কনোলি চার বলে ১ রান করে আউট হন নাহিদের বলে ক্যাচ দিয়ে। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই আরও একটি উইকেট পায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন মিচেল মার্শ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছয় ওভার শেষে তিন উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪৩। ওখান থেকে তাদের হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ২৬ বলে ৪৫ রান করে ডেভিড আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রেনশ। চার চার ও পাঁচ ছক্কায় তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫২ বলে ৮৯ রান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়

বড় রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ ঝোড়ো শুরু করে ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি। চার চার ও এক ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হয়ে যান রেনশের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে। তিনে নামা সৌম্য ৯ বলে ১৫ রান করে আউট হন। তবে তখনো দলকে পথ হারাতে দেননি সাইফ হাসান ও পারভেজ। শুরুটা ধীর হলেও পরে তা কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছিলেন সাইফ।

এই দুজনের জুটিতে ৩৬ বলে আসে ৫৩ রান। কিন্তু অ্যারন হার্ডির বলে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ ও সাইফ ৩৩ বলে ৪২ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর বাকি পথ আর পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ। শামীম হোসেন ৮ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর হৃদয়ের সঙ্গী হন আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া আব্দুল গাফফার। কিন্তু তারা রানের গতির সঙ্গে ঠিকঠাক পাল্লা দিতে পারেননি।

গাফফার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১১ বলে ১৩ রান করে। শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে স্ট্রাইক রেট ভালো করলেও হৃদয়ের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৬ বলে ১৭। সেখান থেকে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর কঠিন কাজটা করতে পারেননি গাফফার ও সাকলাইন।