দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মেক্সিকো রীতিমতো উড়ছে। মেক্সিকান সমর্থকেরা নিজেদের দলকে উৎসাহ দিতে নানা আয়োজন করছেন। খেলা শুরু হলে পুরো স্টেডিয়ামে শুরু হয় মেক্সিকান ওয়েভ, আর স্টেডিয়ামের বাইরে চলে সবুজ জার্সির বিশাল সমাবেশ।
মার্লিনের আবির্ভাব
প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর দারুণ জয়ের পর স্টেডিয়ামের বাইরে সবার নজর কাড়ে ছোট্ট একটি হাঁস। মেক্সিকোর রাস্তায় দেশটির ফুটবল দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সেই হাঁসটি। স্টেডিয়ামের বাইরের এমন সব মজার কাণ্ড বিশ্বকাপকে করে আরও রঙিন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো যখন জয় উদ্যাপন করছিল, ঠিক তখনই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয় দুই বছর বয়সী হাঁস মার্লিন। মেক্সিকো দলের সবুজ জার্সি আর পায়ে মোজা পরে হাঁসটি হাজার হাজার ভক্তের সঙ্গে মেক্সিকো সিটির রাস্তায় জয়ের উল্লাসে নামে।
ভাইরাল হয়ে ওঠা
মুহূর্তের মধ্যেই মার্লিনের হেঁটে বেড়ানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাতারাতি মার্লিন পরিণত হয় এবারের বিশ্বকাপের প্রথম অনানুষ্ঠানিক মাসকটে। অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমরা মার্লিনকে স্টেডিয়ামে দেখতে চাই।’ কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘এই হাঁসটাকে আমাদের মাসকট বানানো হোক।’ মেক্সিকানদের কাছে এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এই হাঁসটিই।
স্থানীয় তারকা থেকে বিশ্ব তারকা
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই মেক্সিকো সিটির মানুষের কাছে মার্লিন বেশ পরিচিত ছিল। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক শহরের কেন্দ্রস্থলে কোনো মেলা বা উৎসব হলেই সেখানে মার্লিনকে দেখা যেত। প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো মার্লিন ওর মালিক কার্লা গোমেজের সঙ্গে কাটায়। কার্লা মূলত একটি ছোট ঠেলাগাড়িতে করে মেক্সিকো সিটির বিভিন্ন রাস্তায় পানি ও কোমল পানীয় বিক্রি করেন। মার্লিনকে সঙ্গে নিয়ে কার্লা যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটেন, তখন পথচারীরা হাঁসটিকে দেখে আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন। অনেকেই মার্লিনের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
কার্লা গোমেজ জানান, ‘আমরা মার্লিনকে বাড়িতে একা রেখে আসতে পারি না। আমরা চাই সে সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকুক। ও আমাদের বাচ্চার মতো। আর এখন তো ও সবার প্রিয় তারকা।’
মার্লিনের দৈনন্দিন জীবন
বৃষ্টি হোক বা রোদ, মার্লিন সব সময় কার্লা আর তাঁর ছোট ছেলে ক্রিস্টিয়ানের পেছনে পেছনে ঘোরে। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত কিছু জায়গা—আলামেদা সেন্ট্রাল, প্যালেস অব ফাইন আর্টস এবং জোকালো স্কয়ারে তাদের প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। ক্রিস্টিয়ানকে মূলত উপহার হিসেবে এই হাঁসটি দেওয়া হয়েছিল। তাই মার্লিনের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানের সম্পর্কটা একটু বেশিই মায়ার। মার্লিন তাঁর ছেলের বেশ ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ জার্সি ও ভাইরাল মুহূর্ত
মূলত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষে কার্লা তাঁর নিজের ছেলের জন্য জার্সি কিনেছিলেন। তখন তিনি ভাবলেন, মার্লিন কেন বাদ থাকবে। তাই তিনি মার্লিনের জন্যও মেক্সিকো দলের সবুজ ফুটবল জার্সি আর পায়ে ছোট ছোট মোজা বানিয়ে দেন। সেই সাজে রাস্তায় নামার পরেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় মার্লিন।
পোষা হাঁসটির হঠাৎ এমন বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া দেখে বেশ অবাক হয়েছেন কার্লা। সেই বিস্ময়ের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঠেলাগাড়ির বোতলজাত পানি বিক্রি করতে সাহায্য করেই মার্লিন আগে থেকে বেশ পরিচিত ছিল। ও সব সময় আমাদের ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে থাকে। কিন্তু ও যে পুরো দুনিয়ায় এভাবে পরিচিতি পাবে, তা আমরা কখনোই কল্পনা করিনি। আমরা সত্যি এটা আশা করিনি।’



