লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার স্বপ্ন পূরণ হয় ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর। ঢাকার এক তরুণ ভক্তের চোখে সেই রাতের গল্প।
শৈশব থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা
আকাশি নীল জার্সি, লম্বা চুল, গম্ভীর ছোট্ট ছেলেটির নাম লিওনেল মেসি। সেই মেসির খেলা দেখেই ফুটবলপ্রেমী হয়ে ওঠা। খেলায় তাঁর পায়ের জাদু আর্জেন্টাইন ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে দেয় আবেগ–অনুভূতি।
ছোটবেলা থেকে একটাই আক্ষেপ—মেসির হাতে বিশ্বকাপ না দেখা। ২০০৬ ও ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায়; ২০১৪ সালে ফাইনালে হার; ২০১৮ সালে দলের ভরাডুবি; ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু। কিন্তু তারপর ফাইনাল অব্দি পৌঁছায় আবেগের দল আর্জেন্টিনা।
ফাইনালের দিন: ঢাকায় থাকার সিদ্ধান্ত
দিনটি ছিল ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২। ঢাকার মিরপুর থেকে সকালে পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে রওনা। মামা ১৬ তারিখে ট্রেনের পুরো কেবিন নিয়েছিলেন, কিন্তু আমি ১৭ তারিখ রাতে সিদ্ধান্ত নিই ফাইনাল খেলা ঢাকাতেই দেখব। একদিকে খুশি, অন্যদিকে মন খারাপ—পরিবারের সঙ্গে যেতে না পারা।
আব্বার ইচ্ছা ছিল বাড়িতে আয়োজন করে সবাই মিলে খেলা দেখা। আমি ঢাকায় থেকে যাই। বসুন্ধরায় নর্থ সাউথের নাজমুল ভান্ডারী ও চট্টলা গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে জমিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা।
বসুন্ধরায় খেলা দেখা
মিরপুর থেকে বসুন্ধরা পৌঁছাই বিকেলে। নাজমুল ভাইয়ের বাসায় গিয়ে দেখি কেউ নেই। পরে সবাই আসে। সন্ধ্যায় নাজমুল ভাই ও মাইনুলের সঙ্গে আড্ডা। খেলার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা বাড়তে থাকে।
নাজমুল ভাই ও আবরার ভাইসহ বসুন্ধরা ঘাটপারে চা-নাশতা করি। রাত আটটার আগে ঢালি ফুড কোর্টে পৌঁছাই। সেখানে নাজমুল ভাই, নেওয়াজ ভাই, আশিক ভাই, আবরার ভাই, রাফিন ভাই, মাইনুলসহ কয়েকজন ভাই-ব্রাদার ও আপুরা। সবার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। হইহুল্লোড় করে খেলা দেখা শুরু।
নাটকীয় ম্যাচ ও পেনাল্টি জয়
হাফ টাইম পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে। শেষের দিকে কালরাত্রি নেমে আসে। ৯০ মিনিটের পর ফুড কোর্টের বাইরে অস্থিরতায় হাঁটাহাঁটি। ব্রাজিলের ভক্তরা আর্জেন্টিনার পরাজয় সেলিব্রেট করার জন্য প্রস্তুত। ১২০ মিনিটের নাটকীয় খেলা শেষ হয় ৩-৩ সমতায়।
পেনাল্টি পিরিয়ডে মেসি ও ইমি মার্টিনেজের অনন্যসাধারণ পরিকল্পনায় আর্জেন্টিনা ফাইনালে জয়লাভ করে এবং মেসির হাতে প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে।
উল্লাস ও বিদায়
সঙ্গী কিছু ব্রাজিল ভক্তও সেদিন আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করেছিল। রাফিন ভাইয়ের কান্না, নেওয়াজ ভাইয়ের আর্তনাদ। নর্থ সাউথের সামনে ফিফা বিশ্বকাপের থিমের সুরে নেচেছিলাম। আশিকুর ভাই ও সুমাইয়া আপুর নাচও অসাধারণ ছিল।
১৯ ডিসেম্বর সকালের ট্রেনের টিকিট ম্যানেজ করে দেন নাজমুল ভাই। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাত্রাসঙ্গী আবরার ভাই ও বন্ধু মাইনুল। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চট্টগ্রামে যাই।



