লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাস গড়লেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার ২-০ গোলে জয়ের, কিন্তু গল্পটা শুধু মেসির।
পেনাল্টি মিস দিয়ে শুরু
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল অবিশ্বাস্য এক পেনাল্টি মিস দিয়ে। ১৮ মিনিটে মেসি পেনাল্টি থেকে শট নেন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের বাইরে। ডালাস স্টেডিয়ামে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল মেসির তৃতীয় পেনাল্টি মিস—এমন রেকর্ড যা কোনো ফুটবলারই চান না। ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালে, এই দিনেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অমর গোল করেছিলেন। এমন দিনে মেসি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়ে যান।
ইতিহাসের দরজা খুলে গেল
কিন্তু মেসি তো মেসিই। ৩৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে থিয়াগো আলমাদার ডামি মুভে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই নিচু কোণে পাঠিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর ১৭তম গোল, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে তাকে পেছনে ফেলে দেয়। ডালাস স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। ৩৯ বছর বয়সের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই মানুষটি ইতিহাসের পাথরে নাম খোদাই করলেন।
দ্বিতীয় গোল ও রেকর্ড আরও উঁচুতে
অস্ট্রিয়া লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। মার্কো আরনাউতোভিচ ও মার্সেল সাবিটসার প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। ৯০+৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট ঠেকলে রিবাউন্ড থেকে মেসি প্রথম শট ব্লক হলেও দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান। এটি তাঁর বিশ্বকাপে ১৮তম গোল, ক্লোসার রেকর্ড আরও দূরে সরিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও বল পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।
আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচটি গোলের সবকটিই মেসির। ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার শেষ গ্রুপ ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে—বাঁচার লড়াই। ডেভিড আলাবা, আলেকজান্ডার প্রাস, কেভিন ডানস—সবাই চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সামনে মেসি থাকলে সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়।
মেসির অমর গল্প
পেনাল্টি মিসের লজ্জা আর ইতিহাসভাঙা গোল—এই দুটো মিলিয়ে এক অমর গল্প তৈরি হয়েছে ডালাসে। ৩৯ বছর বয়সে, বিশ্বকাপের মাঠে পাঁচ গোল, দুটি ম্যাচে। এই মানুষটার বয়স বাড়ে না, ফুটবল শেষ হয় না। ডালাসের এই রাত শুধু মেসির।



