এক বছর আগেও দৃশ্যটা কল্পনা করা কঠিন ছিল। চোটে জর্জরিত শরীর, মাঠের চেয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বেশি সময় কাটানো, ক্লাবের হয়ে পুরো মৌসুমে খেলা ঘণ্টাখানেকের কিছু বেশি। সেই রোমেলু লুকাকুই এখন বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে বেলজিয়ামের অন্যতম ভরসা।
বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের আগে বেলজিয়ামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুখে তাই এক স্বীকারোক্তি, যা পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি কিছু বলে দেয়, ‘আমার তো বিশ্বকাপে থাকারই কথা ছিল না।’
চোটের পর ফেরা
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে লুকাকু বুঝেছেন, সব লড়াই গোল করার নয়। কিছু লড়াই কেবল মাঠে ফেরার। ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির হয়ে গত মৌসুমে বারবার চোটে পড়ে প্রায় পুরো মৌসুমই হারিয়েছেন। বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কিনা, সেই সংশয়ও ছিল প্রবল। কিন্তু সব শঙ্কা পেছনে ফেলে এখন তিনি বেলজিয়ামের জার্সিতে নকআউট পর্ব খেলতে প্রস্তুত।
৩৩ বছর বয়সি এ স্ট্রাইকার বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরেই আমি খুশি। আমার মৌসুম যেভাবে গেছে, তাতে বিশ্বকাপে থাকারই কথা ছিল না। তাই এখানে থাকা, খেলা, দলকে সাহায্য করা, পার্থক্য গড়ে দেওয়া—এসবই আমার কাছে দারুণ ব্যাপার।’
নতুন ভূমিকা
একসময় বেলজিয়ামের আক্রমণের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি। এখন অবশ্য ভূমিকাটা বদলেছে। প্রথম একাদশে নিয়মিত জায়গা নেই, অনেক সময় বেঞ্চ থেকেই নামতে হয়। কিন্তু তাতে কোনো আক্ষেপ নেই লুকাকুর, ‘বেঞ্চে বসে আমার অনেক সময় থাকে কোথায় ফাঁকা জায়গা আছে, সেটা বিশ্লেষণ করার। এরপর মাঠে নেমে সেই জায়গাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।’
গ্রুপপর্বেই সেই প্রভাব দেখা গেছে। মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে বদলি নেমে আত্মঘাতী গোল আদায়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে ইরানের বিপক্ষে শুরু থেকে খেলেন, আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি নেমে গোলও করেন। এখনো শতভাগ ফিট নন, কিন্তু ১২১ মিনিট খেলেই এক গোলের পাশাপাশি আরেক গোলে অবদান রেখেছেন।
সেনেগালের চ্যালেঞ্জ
তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের গল্পে ডুবে থাকতে চান না লুকাকু। তার চোখ এখন সেনেগালের দিকে। আফ্রিকার দলটিকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি, ‘ভালো দল সেনেগাল। কৌশলগত দিক থেকে দারুণ সংগঠিত। আর শারীরিক শক্তিতে তারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আমি ড্রেসিংরুমে সবাইকে বলেছি, এটা হবে ৫০-৫০-এর লড়াই।’



