ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের ঘামঝরানো জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই জয়ের পর মাঠের ফুটবল ছাড়িয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ক্রমাগত উসকানি এবং ফরাসিবাহিনীর অবিশ্বাস্য আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। ফ্রান্সের এমন ঠাণ্ডা মাথার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সুইডেনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।
ইব্রাহিমোভিচের প্রশংসা ও রসিকতা
ফক্স স্পোর্টস-এর শেয়ার করা এক ভিডিওতে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, এই ম্যাচটি ফরাসি ফুটবলারদের জন্য একেবারেই ভিন্নধর্মী এক চ্যালেঞ্জ ছিল। প্যারাগুয়ের উসকানিতে পা না দিয়ে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখাটাই ছিল তাদের জন্য আসল পরীক্ষা। এরপর নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘আমি এই ম্যাচে খেললে অন্তত ৪টি লাল কার্ড পেতাম! আমি আসল খেলা পছন্দ করি। কেউ যখন উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে, তা আমার মোটেও পছন্দ নয়। তবে ফ্রান্স আজ দারুণ শান্ত ছিল। উসকানির জবাবে মুচকি হাসা, গোল করা এবং ম্যাচ জিতে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করা—এটাই হলো সেরা উত্তর।’
প্রথমার্ধে গোলশূন্য, ইতিহাসের পাতায় নাম
গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে খেললেও শেষ ষোলোতে ফ্রান্সকে প্রতিটি ইঞ্চির জন্য লড়াই করতে হয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এ জার্মানিকে হারানো প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধ এতটাই আক্রমণহীন ছিল যে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয় ম্যাচ—যেখানে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল পোস্টে একটিও শট নিতে পারেনি।
মাঠের উত্তেজনা ও এমবাপ্পের প্রতিক্রিয়া
খেলার মাঝপথে মাঠের উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসের এক ফাউলের পর প্রতিক্রিয়া দেখান এমবাপ্পে। এ নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একপর্যায়ে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যা ম্যাচ শেষেও বজায় ছিল। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে নিজেদের ‘কঠিন ফুটবল’ খেলার মানসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হবে। আমরা প্রয়োজনে হাত নোংরা করতেও প্রস্তুত ছিলাম। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলাম।’



