শৈশব ও শিক্ষাজীবন
গোলাম সারোয়ার টিপু ১৯৪৪ সালের ২৩ অক্টোবর সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় বরগুনায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এ এম গোলাম মোস্তফা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং মা নূরজাহান বেগম। শৈশব কেটেছে মানিকগঞ্জে, যেখানে তিনি রাধাবল্লভ প্রাইমারি স্কুলে পড়ালেখা শুরু করেন।
১৯৫৬ সালে পরিবার ঢাকায় চলে এলে তিনি তেজগাঁও পলিটেকনিক হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৬২ সালে সেখান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে অনার্সে ভর্তি হন, কিন্তু ফুটবল খেলার কারণে পড়াশোনায় মন বসাতে পারেননি।
ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু
১৯৬৩ সালে তেজগাঁও ফ্রেন্ডসের হয়ে সেকেন্ড ডিভিশনে ফুটবল জীবন শুরু করেন টিপু। তাঁর স্কুলশিক্ষক দিনেশ দত্ত তাঁকে খেলতে উৎসাহিত করেন। পরের বছর তিনি ফার্স্ট ডিভিশনে বিজি প্রেসে যোগ দেন। একটি ঘটনায় তিনি লেফট উইঙ্গার হিসেবে নিজের স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন।
১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি অল পাকিস্তান ফুটবল দলে ডাক পান। প্রথম ম্যাচ খেলেন মুলতানে। ১৯৬৯ সালে ইরানে ফ্রেন্ডশিপ কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেন, যেখানে পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দল ছিল।
সিনেমা ও থিয়েটারে অভিনয়
শিশুশিল্পী হিসেবে ফতেহ লোহানী পরিচালিত ‘আকাশ আর মাটি’ সিনেমায় অভিনয় করেন টিপু। সিনেমাটিতে নায়িকা ছিলেন সুমিতা দেবী, নায়ক প্রবীর কুমার ও আমিনুল হক। টিপু আমিনুল হকের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া মঞ্চেও অভিনয় করেছেন তিনি।
স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবল
১৯৭২ সালে শেখ কামালের আহ্বানে আবাহনী ক্রীড়া চক্রে যোগ দেন টিপু। তিনি আবাহনীর প্রথম ফুটবল দলের সদস্য হন এবং দলকে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দল ১৯৭৩ সালে মারদেকায় গেলেও হাঁটুর চোটের কারণে তিনি সুযোগ পাননি। তবে ১৯৭২ সালে ঢাকা ইলেভেনের হয়ে বরদলোই ট্রফিতে খেলেছিলেন।
১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেন। তাঁর ফেয়ারওয়েল ম্যাচে তিনি গোল করে মাঠ ছাড়েন, যা উপস্থিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রশংসা কুড়ায়।
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ও ব্যক্তিগত জীবন
১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে ‘রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কার-২০১৮’ আজীবন সম্মাননা পান।
তিনি ১৯৭৪ সালের ১ মার্চ কাজী মমতাজ সারোয়ারকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে স্কলাস্টিকার শিক্ষক, ছোট মেয়ে সানিডেলের শিক্ষক ছিলেন এবং ছেলে স্কটল্যান্ডে সরকারি চাকরি করেন।
বাংলাদেশ ফুটবলের মূল্যায়ন
টিপু মনে করেন বর্তমান ফুটবলাররা আগের চেয়ে বেশি দূরত্ব কভার করে এবং খেলার গতিও বেড়েছে। তিনি জামাল ও আইয়াজের মতো খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বর্তমান দল ভালো করছে কারণ কয়েকজন কোয়ালিটি প্লেয়ার প্রাণ দিয়ে খেলছে।
বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, এবার চ্যাম্পিয়ন হবে ইউরোপের কোনো দল। তিনি ফ্রান্স ও স্পেনকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখেন।



