বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফরাসিরা বেশ কিছু দারুণ রেকর্ডও গড়েছে। পরিসংখ্যানের আলোয় ম্যাচের খুঁটিনাটি দেখে নেওয়া যাক—
বিরল ঘটনার সাক্ষী মেসি-এমবাপ্পে
সর্বশেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট ও পেনাল্টি মিসের বিরল ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। এর মধ্যে চলতি বিশ্বকাপেই গত তিন দিনেই এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের গোল ও অ্যাসিস্ট কীর্তি
বিশ্বকাপের একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট—এমবাপ্পে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এই কীর্তি গড়লেন। সর্বশেষ ৬০ বছরে তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচে (৫ বার) এই কীর্তি আছে শুধু লিওনেল মেসির।
টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল
এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে পৌঁছাল ফ্রান্স। ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে এই কীর্তি গড়ল তারা। এর আগে জার্মানি (২০০২-২০১৪ এবং ১৯৮২-১৯৯০) এবং ব্রাজিল (১৯৯৪-২০০২) টানা তিন সেমিফাইনাল খেলেছিল।
সেমিফাইনালের তালিকায় ফ্রান্স
ফ্রান্স বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছে আটবার। সবচেয়ে বেশি সেমিফাইনাল খেলার তালিকায় যৌথভাবে ব্রাজিলের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে তারা। শীর্ষে থাকা জার্মানি খেলেছে ১২টি সেমিফাইনাল।
দেম্বেলের গোলের মজার তথ্য
উসমান দেম্বেলের বিশ্বকাপে গোল ৫টি। মজার বিষয় হলো, তাঁর এই ৫টি গোলই এসেছে চলতি আসরে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি কোনো গোল পাননি।
আর্জেন্টাইন রেফারির অধীনে জয়
আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এখন ফ্রান্সের।
এমবাপ্পের গোল্ডেন বুটের দৌড়
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৮। অ্যাসিস্ট আছে ৩টি। তাই লিওনেল মেসির সমান ৮ গোল থাকলেও গোল্ডের বুটের দৌড়ে তিনিই আছেন শীর্ষে।
জয়সূচক গোলে এমবাপ্পের রেকর্ড
বিশ্বকাপের মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছেন। ফুটবল ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটিই সর্বোচ্চ।
দুই খেলোয়াড়ের পাঁচ গোলের কীর্তি
২০০২ সালে ব্রাজিলের পর ফ্রান্সই প্রথম দল, যাদের অন্তত দুজন খেলোয়াড় এক বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো (৮ গোল) ও রিভালদো (৫ গোল) এবং ২০২৬ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮ গোল) ও উসমান দেম্বেলে (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েন।
তিন তারকার অবদান
চলতি টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের তিন তারকা—এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে মোট ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন। ২০০২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের বিখ্যাত ‘থ্রি আর’ (রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনিও) জুটির চেয়েও যা ৩টি বেশি।
এমবাপ্পের গোলে অবদানের রেকর্ড
গত ৬০ বছরের ফুটবল ইতিহাসে কিলিয়ান এমবাপ্পেই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন আসরে সরাসরি ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) রেখেছেন।
এই আসরে এখন পর্যন্ত ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে গার্ড মুলারের (১৩টি) পর এক টুর্নামেন্টে এটিই কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অবদান।
নকআউট পর্বে এমবাপ্পের অবদান
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের গোলে অবদান এখন ১৪টিতে। সর্বশেষ ৬০ বছরে নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে এটিই সর্বোচ্চ।
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে জালে জড়িয়েছিলেন এমবাপ্পে। ২০২০ সালের ইউরোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে মিসের পর ফরাসি জার্সিতে তার প্রথম পেনাল্টি মিস গতকাল মরক্কোর বিপক্ষে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা
বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ২০টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসির (২১ গোল) ঠিক পেছনেই আছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
দেশমের অধীনে সর্বোচ্চ ম্যাচ
বিশ্বকাপে কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে খেলেছেন ২০টি ম্যাচ। একই কোচের অধীনে বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এটি।
ফ্রান্সের জয়ের সংখ্যা
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মোট জয় এখন ৪৫টি। ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে তারা জয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছে। তাদের ওপরে আছে শুধু ব্রাজিল (৭৯), জার্মানি (৭০) ও আর্জেন্টিনা (৫২)।
এমবাপ্পের ১০০ গোলে অবদান
ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০–এর বেশি গোলে অবদান রাখলেন এমবাপ্পে। ফরাসি জার্সিতে তাঁর বর্তমান পরিসংখ্যান ৬৪টি গোল ও ৩৭টি অ্যাসিস্ট।
বুনুর পেনাল্টি সেভ রেকর্ড
টাইব্রেকার মিলিয়ে বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ৯টি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র ২টি গোল হজম করেছেন ইয়াসিন বুনু। ৪টি সেভ করেছেন এবং ৩টি পোস্টে ছিল না। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি সেভ করার রেকর্ড এখন তাঁর।



