ফিফা শান্তি পুরস্কার বিতর্ক: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের
ফিফা শান্তি পুরস্কার: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এই বিষয়ে ফিফার নৈতিকতা কমিটিকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগ ও চিঠি

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রীড়া মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’ গত বছর ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমইপি) একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে ফেয়ারস্কয়ারের সেই অভিযোগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন। ফেয়ারস্কয়ার গত বৃহস্পতিবার রাতে চিঠিটি প্রকাশ করেছে। গত ২৯ জুনের ডেটলাইনে লেখা সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার নিজস্ব নৈতিকতা বিধি অনুযায়ী সভাপতি ইনফান্তিনোকে অবশ্যই ‘রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ’ থাকতে হবে। ইউরোপের ১৩টি দেশের ৫০ জন আইনপ্রণেতা ফেয়ারস্কয়ারের সুরেই এই চিঠিতে সুর মিলিয়েছেন।

নৈতিকতা কমিটির ভূমিকা

চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থাটির সেই দাবির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ফিফার নৈতিকতা কমিটির খতিয়ে দেখা উচিত, বার্ষিক শান্তি পুরস্কার চালু করা এবং প্রথমবারেই সেই পুরস্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ফিফা কাউন্সিল বা কাউন্সিলের ব্যুরো নিয়েছে, নাকি ইনফান্তিনো নিজে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা চিঠিতে আরও যোগ করেন, ‘ফিফা যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি দায়বদ্ধ, এই অভিযোগ তা প্রমাণ করার একটি বড় সুযোগ।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নরওয়ের অবস্থান

ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু নরওয়ে এই ‘শান্তি পুরস্কার’ বিতর্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জুনে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেয়ারস্কয়ারের বিবৃতি

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেয়ারস্কয়ার জানিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ভেতরের সুশাসনহীনতা ও নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এটি একটি বড় ধরনের হস্তক্ষেপ। ২০১৫ সালে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারকে পদত্যাগের আহ্বান জানানোর পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে এটাই সবচেয়ে জোরালো পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্ল্যাটার।

স্বাক্ষরকারী সদস্যরা

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৫০ জন সদস্য মূলত সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, লিবারেল ও গ্রিনস পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে প্রধান চারজন স্বাক্ষরকারী হলেন আয়ারল্যান্ডের ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, নেদারল্যান্ডসের লারা ওল্টার্স, ডেনমার্কের নিলস ফুলসাং ও জার্মানির সেবাস্টিয়ান এভারডিং।

সৌদি আরব প্রসঙ্গ

চিঠিতে ট্রাম্পের পুরস্কারের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে ফিফার সাম্প্রতিক সম্পর্কেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি ‘আরামকো’র সঙ্গে কিছুদিন আগে ফিফা একটি স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা আরামকোকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট দূষণকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে অভিহিত করে এই চুক্তির নিন্দা জানিয়েছেন।