হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন দেম্বেলে, এমবাপ্পের কোলে উৎসব
হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন দেম্বেলে, এমবাপ্পের কোলে উৎসব

উসমান দেম্বেলে সবাইকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, তিনি আসলে কে! সর্বশেষ ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে এটাই ছিল তাঁর বড় পরিচয়। কিন্তু বিশ্বকাপে সবাই যেন তা ভুলেই যেতে বসেছিলেন! কারণ লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ডরা গোলের পর গোল করছেন, অথচ গত বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খোঁজ নেই। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দেম্বেলে নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন।

৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম

মাত্র ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন দেম্বেলে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে সাবেক চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্ট। সে হিসেবে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপে গত ৭২ বছরের মধ্যে দ্রুততম। ম্যাচে যেকোনো সময় নেমে বিশ্বকাপে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড হাঙ্গেরির লাসলো কিসের—১৯৮২ বিশ্বকাপে এল সালভাদরের বিপক্ষে বদলি নেমে ৭ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের মধ্যে।

গোলের ধাঁচে বার্সেলোনা ও পিএসজির স্মৃতি

দেম্বেলের সবগুলো গোলের ধাঁচই সবার কাছে খুব পরিচিত। বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির জার্সিতেও তিনি ঠিক ওভাবেই খেলেছেন। ৭ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে তাঁর প্রথম গোলটি বক্সের ভেতরে বাঁ পায়ে স্ট্রাইকারদের ‘ট্রেডমার্ক’ গোল। ১৩ মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটি উইঙ্গারসুলভ—এবারও আড়াআড়ি পাসদাতা এমবাপ্পে, বাঁ প্রান্ত দিয়ে কাট-ইন করে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁকানো শটে। ৩২ মিনিটের গোলটিও বাঁ পায়ে, এবার বক্সের ভেতরে ডিফেন্ডারদের একটু নাচিয়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

থিয়েরি অঁরির প্রশংসা

ফ্রান্সের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি দেম্বেলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘গ্রেট খেলোয়াড়েরা মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন না, তাঁরা মুহূর্ত তৈরি করেন। ভালো খেলোয়াড় ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে এটাই পার্থক্য।’ অঁরি আরও বলেন, ‘পরের ম্যাচে যদি ডিফেন্ডার হিসেবে আমাকে দেম্বেলের মুখোমুখি হতে হতো, তাহলে খুব দুশ্চিন্তায় ভুগতাম।’

ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে চতুর্থ হ্যাটট্রিক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন দেম্বেলে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ইউসেবিও, ১৯৮২ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে রুমেনিগে ও ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর এবার দেম্বেলে। সেই দেম্বেলে, যাঁর ভেতরটা দেখা গেল নরওয়ের বিপক্ষে। তাঁর ভেতরটা শুধু স্ট্রাইকারের আদলে গড়া নয়, উইঙ্গার, মিডফিল্ডারের চুন-সুরকিও তাতে আছে।

এমবাপ্পের সঙ্গে উচ্ছ্বাস

হ্যাটট্রিকের পর দেম্বেলেকে দুবার কোলে তুলে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নরওয়ে ম্যাচকে অনেকেই এমবাপ্পে-হলান্ডের দ্বৈরথ হিসেবে দেখলেও দেম্বেলে প্রমাণ করে দিলেন, পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর এমবাপ্পের চেয়ে কম নয়। বর্তমানে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের সমান ৪ গোল। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।