ব্রাজিলের ছন্দ ফেরার পথে, জোগো বোনিতোর প্রত্যাবর্তন?
ব্রাজিলের ছন্দ ফেরার পথে, জোগো বোনিতোর প্রত্যাবর্তন?

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে ফিরল ব্রাজিলের ছন্দ

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ব্রাজিল দীর্ঘদিন পর নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের নয়, বরং এটি একটি দলের ধীরে ধীরে জেগে ওঠার ইঙ্গিত বহন করে। দীর্ঘদিন পর ব্রাজিলকে বলের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ দেখা গেছে, তারা শুধু আক্রমণ করেনি, আক্রমণ উপভোগ করেছে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নৈপুণ্য

এই পুনর্জাগরণের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুই গোলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার উপস্থিতি। প্রতিবার বল পায়ে নেওয়ার পর মনে হয়েছে কিছু একটা ঘটতে পারে। ভিনিসিয়ুসের ফুটবলে এক ধরনের বেপরোয়া সৌন্দর্য আছে, তিনি ভুল করতে ভয় পান না, প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দ্বিধা করেন না।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন

আরও বড় সুখবর হলো নেইমারের প্রত্যাবর্তন। সমালোচনা, বিতর্ক কিংবা ইনজুরি সবকিছুর বাইরে নেইমার এখনও এই প্রজন্মের সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। তার খেলার মধ্যে এখনও রাস্তায় বেড়ে ওঠা শিশুর আনন্দ আছে, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আছে। যদি তিনি পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেন, আর ভিনিসিয়ুস নিজের বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কার্লো আনচেলত্তির ভূমিকা

কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল তিনি কি ব্রাজিলকে শুধু কার্যকরী দল বানাবেন, নাকি তাদের আত্মাটাও ফিরিয়ে দেবেন। ইতালিয়ান এই কোচের দীর্ঘ ক্যারিয়ার বলে, তিনি জানেন কখন শৃঙ্খলা প্রয়োজন, আবার কখন শিল্পীকে স্বাধীনতা দিতে হয়। বিশ্বকাপের শুরুতে তিনি ফলাফলকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ আত্মবিশ্বাসহীন একটি দলকে আগে জিততে শেখাতে হয়। এখন মনে হচ্ছে, সেই দ্বিতীয় অধ্যায়ের দরজাও ধীরে ধীরে খুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল সংশয়ে

বিশ্বকাপের শুরুটা ব্রাজিলের জন্য সংশয়ে ভরা ছিল। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতো দেখায়নি। পাসগুলো ছিল অনিশ্চিত, আক্রমণগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একক প্রতিভা না থাকলে হয়তো সেই ম্যাচের গল্প অন্যরকম হতে পারত। হাইতির বিপক্ষে জয় এলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জয় তখনও খুঁজছিল ব্রাজিল।

সামনের চ্যালেঞ্জ

অবশ্যই, একটি ম্যাচ দেখে অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই। সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপের প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে নকআউট পর্বে, যেখানে ভুলের মূল্য অনেক বেশি। তবু ফুটবলপ্রেমীরা আশাবাদী হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন, কারণ ব্রাজিলকে আবারও কিছুটা ব্রাজিলের মতো দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর অন্তত মনে হচ্ছে, তারা নিজেদের হারানো আয়নাটা খুঁজে পেয়েছে।