পিটিয়ে থানায় নেওয়ার ঘটনায় বিষণ্নতায় ভুগছেন নাঈম হাসান
পিটিয়ে থানায় নেওয়ার ঘটনায় বিষণ্নতায় নাঈম হাসান

পিটিয়ে থানায় নেওয়া এবং থানায় হেনস্তার ঘটনার পর থেকে বিষণ্নতায় ভুগছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুই চিকিৎসক নাঈমকে দেখতে যান তার বাড়িতে। তারা নাঈমের সঙ্গে কথা বলেন। বিষণ্নতা কাটাতে নাঈমকে একা না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রবিবার (১৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বিকালে নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভাইয়ের বক্তব্য

কামরুল আলম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে নাঈম হাসান বিষণ্নতায় ভুগছেন। তার বিষণ্নতা কাটাতে পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন চেষ্টা করেছেন। বিসিবির চিকিৎসক তাকে একা রাখতে নিষেধ করেছেন। একা থাকলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে পড়বে। তখন মানসিক যন্ত্রণায় ভোগবেন। এ কারণে একা থাকতে মানা করেছেন চিকিৎসক।’

তিনি আরও জানান, নাঈম আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় বিমানে ঢাকায় চলে গেছেন। সেখানে অন্যান্য খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকলে বিষণ্নতা কেটে যাবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারের দাবি

কামরুল আলম আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শুনেছি। শুধু প্রত্যাহার করলে হবে না। এ ঘটনায় ওসির সম্পৃক্ততা থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও হেনস্তা করা হয়েছে। পরে বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

পুলিশের ব্যবস্থা

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। শনিবার রাতে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সিএমপি।