নারায়ণগঞ্জ পুলিশের তদন্তকারী শাখা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তিন কর্মকর্তা ক্লুলেস মামলা তদন্তে অসামান্য সাফল্যের জন্য আইজি ব্যাজ (এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ) পেয়েছেন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তাদের দেওয়া হয়।
আইজি ব্যাজ প্রাপ্তরা
পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন উপ-পরিদর্শক পুলক সরকার, মো. জাহিদ হোসেন রায়হান ও সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন। তারা প্রত্যেকেই জটিল ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পিবিআইয়ের ভূমিকা
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের নেতৃত্বে গত এক বছরে একের পর এক ক্লুলেস হত্যা, ডাকাতি ও অপহরণ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলক সরকারের সাফল্য
উপ-পরিদর্শক পুলক সরকার সোনারগাঁও থানার ক্লুলেস প্রতিবন্ধী সোহেল (৪১) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করেন। এই সাফল্যের জন্যই তিনি আইজি ব্যাজ পান।
জাহিদ হোসেন রায়হানের কৃতিত্ব
উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদ হোসেন রায়হান আড়াইহাজার ও বন্দর থানার দুটি মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন এবং ক্লুলেস মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিদের গ্রেফতার করেন। এছাড়া বন্দরে সালিশ বৈঠকে হাতুড়ি পেটায় শ্রমিক হত্যা ও ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলাও তিনি সফলভাবে নিষ্পত্তি করেন।
সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের অবদান
উপ-পরিদর্শক সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ক্লুলেস যুবক হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন। তিনি হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করে মামলা নিষ্পত্তি করেন।
উল্লেখ্য, এ বছরই প্রথম পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে সর্বাধিক তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা আইজি ব্যাজ পুরস্কারে ভূষিত হলেন। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের হাতে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন।



