ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা তুঙ্গে। বাড়তি চাহিদা পূরণে দোকানিরা হিমশিম খাচ্ছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সাপ্তাহিক ছুটিতে কাপড়ের অনেক দোকান বন্ধ থাকলেও জার্সির দোকান খোলা ছিল এবং উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্রির তুলনা
পৌর শহরের নতুনবাজার মহল্লার জামাল উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া জানান, আর্জেন্টিনার জার্সি একশোটি বিক্রি হলে ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ছয় থেকে সাতটি। ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে।
লাভের পরিমাণ
তিনি আরও বলেন, ঈদেও জামাকাপড়ের চাহিদা ছিল। ওই সময় ৫০ হাজার টাকার মাল কিনলে লাভ হতো সাত থেকে আট হাজার টাকা। এখন ৫০ হাজার টাকার জার্সি কিনে আনলে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা এত বেশি যে, একদিকে আসছে, অন্যদিকে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
দোকানিদের অভিজ্ঞতা
বাবুল বলেন, আমিও আর্জেন্টিনার একজন ভক্ত। এখন পর্যন্ত একটি খেলাও মিস করিনি। যত কষ্টই হোক প্রতিটি খেলা দেখছি। পার্শ্ববর্তী দোকানদার নাজমুল হক জানান, সব এখন আর্জেন্টিনা। অন্যদলের সমর্থক খুব কম।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
লামাপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, সাইদুল হক ও নেজামুল ইসলাম জানান, পুরো শহর খুঁজেও ইরানের একটি জার্সি পাওয়া যায়নি, এতে তাদের খুব কষ্ট লেগেছে। আর্জেন্টিনা সমর্থক সাইদুর রহমান লিটু জানান, বাপ-দাদাদের কথা শুনে ম্যারাডোনার ভক্ত হয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে গিয়ে খেলা দেখে আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট ছাড়াও ক্লাব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলা উপভোগ করেন। এখন আমাদের মেসি আছে। বিগত বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি, ইনশাল্লাহ এবারও জিতে বিজয় উল্লাস করব।
ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগ
আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্য শংকর ঘোষ পিলু জানান, আর্জেন্টিনা ভক্তরা ইতোমধ্যে শহরে বর্ণিল শোভাযাত্রা করেছেন। আমরা বিশ্বকাপ মানেই আর্জেন্টিনাকে বুঝি, আমাদের স্বপ্ন ও প্রাপ্তি সব এখন আর্জেন্টিনায়।



