হিচককের ছবির মতো থ্রিলার ম্যাচে ৩-৩ ড্র, ইরানের বিদায় নিশ্চিত
হিচককের ছবির মতো থ্রিলার ম্যাচে ৩-৩ ড্র, ইরান বিদায়

ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক বলেছেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে কোচিং পেশায় আছি। আমার মনে পড়ছে না কোনো ম্যাচে এমন নাটক হয়েছে।’ আলফ্রেড হিচকক যদি কোনো দিন ফুটবল ম্যাচের চিত্রনাট্য লিখতেন, তাহলে কেমন হতো? আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার ম্যাচটা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয় বুঝতে পারবেন। গোল, পাল্টা গোল—সমীকরণ ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া কানসাসের ম্যাচটা থ্রিলার নয় তো কী?

ম্যাচের বিবরণ

২৮ মিনিটে মার্ক আরনুতিভিচের গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। ৪৫ মিনিটে রফিক বেলঘালি সমতা ফেরান আলজেরিয়ার হয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ এক আক্রমণ থেকে অস্ট্রিয়াকে আবার এগিয়ে দেন মার্সেল সাবিতজার। আবার আলজেরিয়ার ফেরার পালা, এবার সমতা ফেরান রিয়াদ মাহরেজ। এরপর মনে হচ্ছিল হয়তো ২-২ গোলেই শেষ হতে যাচ্ছে ম্যাচটা। হতাশায় টিভি সেটের সামনে থাকা ইরান দল হয়তো উঠেই গিয়েছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ে আবার মাহরেজের গোল। আলজেরিয়া এগিয়ে। কিন্তু যোগ করা সময়েরও নির্ধারিত সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর কালাইজিচের হেডে আবার সমতা ফেরে অস্ট্রিয়া, শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত করে পরের পর্বে খেলা।

১৯৮২ সালের স্মৃতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

১৯৮২ বিশ্বকাপে এমনই একটা পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন আলজেরিয়া ছিল ‘শিকার’, অস্ট্রিয়া ‘শিকারী’। গিহনের সেই ম্যাচে জার্মানি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১০ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কেউ আর কোনো গোলই করেনি। ‘সাজানো’ সেই ম্যাচে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় আলজেরিয়ার। যে ম্যাচের পর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ একই সময়ে শুরু হওয়ার রীতি চালু হয়। নিয়তির কি পরিহাস, ৪৪ বছর পর ইরান কি একই অভিযোগে অভিযুক্ত করবে আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়াকে?

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচদের প্রতিক্রিয়া

অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক উড়িয়ে দিয়েছেন কোনো ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। তিনি বলেন, ‘এমন একটা ম্যাচে যদি স্কোরলাইন ৩-৩ হয়, বিশেষ করে শেষ ৯০ সেকেন্ডে যা হয়েছে, এরপর... তাহলে কেউই বলতে পারে না আগে থেকে সব ঠিক করা ছিল।’ রাংনিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন শেষের নাটকের কথা, ‘শেষ ১৫ মিনিট যারা দেখেছে, তারা কেউই বলতে পারবে না যে সবাই ড্র চেয়েছিল। নিশ্চয় ৯৩ মিনিটে দুই দল মিলে ঠিক করেনি, চল, আমরা আরেকটা করে গোল করি।’

৬৭ বছর বয়সী রাংনিক বলেছেন, নিজের ক্যারিয়ারে এমন কিছু দেখেননি। তিনি মজা করে বলেন, ‘আলফ্রেড হিচকক এই ম্যাচের এমন চিত্রনাট্য লিখলে তাকে আমি পাগল বলে উড়িয়ে দিতাম।’

আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ বলেছেন, ‘আমি খুশি যে এই ম্যাচে ফুটবল জিতেছে। ৩-৩ গোলের ড্রই বলে দিচ্ছে তা।’

ইরানের জন্য ট্র্যাজেডি

শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার জন্য থ্রিলার হলেও ইরানের জন্য ম্যাচটা হয়ে রইল ট্র্যাজেডিই। এই ড্রয়ের ফলে ইরান গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।