ম্যাক অ্যালিস্টারের বিষণ্নতা থেকে বিশ্বকাপ জয়ের গল্প
ম্যাক অ্যালিস্টারের বিষণ্নতা থেকে বিশ্বকাপ জয়ের গল্প

আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের হয়ে খেলতে না পেরে তিনি বিষণ্নতায় ভুগেছিলেন এবং ইংল্যান্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মায়ের সঙ্গে ফেসটাইমে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেছিলেন, ‘মা, আর পারছি না। বাড়ি চলে আসব। এখান থেকে আমার বেরোনো দরকার।’

বিষণ্নতার দিনগুলো

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্রাইটনে নিজের ফ্ল্যাটে বসে মায়ের সঙ্গে ফেসটাইমে কথা বলছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তখন তিনি ব্রাইটনের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তাঁর গায়ে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সি থাকলেও দলে তাঁর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তিনি মনে করতেন, তাঁর ওপর কোনো অভিশাপ আছে।

২০২০ সালের শুরুর দিকে বোকা জুনিয়র্স থেকে ইংল্যান্ডে এসে একটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার পর কোভিড মহামারির কারণে পুরো পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে যায়। ফুটবল বন্ধ, বন্ধু নেই, আর তিনি এমন এক দেশে আটকা পড়েন যার ভাষা তিনি জানেন না। বাধ্য হয়ে জুমে ইংরেজির প্রাথমিক পাঠ নেওয়া শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের পরামর্শ ও ফিরে আসা

একা একা থাকা আর খেলতে না পারার কারণে তিনি বিষণ্নতায় ডুবে যান। ২০২০ সালের বড়দিনের সময় তিনি ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছিলেন এবং ক্লাব ছাড়ার জন্য রাশিয়া ও স্পেন থেকে দুটো প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু মা তাঁকে ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেন—যেদিন তিনি ভাইদের সঙ্গে পেছনের উঠানে ফুটবল খেলতেন, সেই উঠানের ঘাস শেষে গর্তে ভরা হয়ে যেত, আর ভাইদের পায়ের আঙুল কাটা, গালে ক্ষত, কপাল ফেটে রক্ত ঝরত। মা তাঁকে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা মনে করিয়ে দেন।

ছোটবেলায় শিক্ষকেরা যখন জিজ্ঞেস করতেন বড় হয়ে কী হতে চান, তিনি ভাবতেন তাঁরা পাগল হয়ে গেছেন। ‘কী হতে চাই মানে! ফুটবলার, ফুটবলার এবং ফুটবলার।’ তাঁর বাবাও ফুটবলার ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন—যা-ই বেছে নিন, মন থেকে সেটাই করুন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বকাপের স্বপ্ন

বিশ্বকাপের ১১ মাস আগে বাবা তাঁকে বলেছিলেন, ‘আলে, যদি প্রিমিয়ার লিগে মূল একাদশে খেলা চালিয়ে যেতে পারো, তুমি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেবে।’ ম্যাক অ্যালিস্টার প্রথমে তা অসম্ভব ভাবলেও বাবা পরিসংখ্যান ও অ্যানালিটিকস দেখিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি ক্লাবের হয়ে ৭৩ শতাংশ ম্যাচে খেলছেন, অন্যদিকে অন্য একজন খেলোয়াড় মাত্র ৫১ শতাংশ ম্যাচে খেলেছে। শেষ পর্যন্ত সত্যিই তাই হলো—ব্রাইটনে বদলি বেঞ্চ থেকে সুযোগ না পেলেও তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেন।

বিশ্বকাপের স্মৃতি

প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাক অ্যালিস্টার গা গরম করছিলেন। কোচ আঙুল উঁচিয়ে ডাকলেন, তিনি দৌড়ে যেতে গেলে কোচ বললেন, ‘না না। তুমি না। তোমার পেছনের জন।’ পরিবারের সদস্যরা ডাগআউটের পেছনের সিটে বসে ছিলেন, বাবা মাথা নাড়ছিলেন। সৌদি আরব ৯০ মিনিট লড়ে চমক দিয়েছিল। তারপর চাপ সৃষ্টি হয়, কিন্তু লিও মেসি বলেছিলেন, সমর্থকেরা যেন বিশ্বাস না হারায়, আমরা দেশকে হতাশ করব না। ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, ‘যখন লিও এ কথা বলে, তখন মনে সত্যিই বিশ্বাসটা জেগে ওঠে।’

সৌদি আরবের কাছে হারের পর মানসিক চাপ ছিল অসহনীয়, তবে আর্জেন্টাইনরা কষ্ট সহ্য করতে জানে—এটা তাদের ডিএনএতে আছে। ম্যাক অ্যালিস্টারের মতে, এটাই তাদের গোপন রহস্য। ‘আমরা সহজ পথে হাঁটতে পছন্দ করি না। আমরা জিততে চাই, কিন্তু কষ্ট সহ্য করাটা শিখতেও চাই। আমাদের সৌন্দর্য হয়তো এটাই।’