২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল 'ত্রিওনদা' নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছোট দলের গোলরক্ষকরা দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও বড় ক্লাবের তারকা গোলরক্ষকরা ভুল করছেন। কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া স্পেনের বিপক্ষে একটি গোলও হজম করেননি। কুরাসাওয়ের এলয় রম এক ম্যাচে ১৫টি সেভ দিয়েছেন। ইরানের আলীরেজা বেইরানভান্দ বেলজিয়ামকে আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, সেনেগালের এদুয়ার্দো মেন্দি, বেলজিয়ামের থিবো কর্তোয়া, জার্মানির মানুয়েল নয়্যার—বড় বড় গোলরক্ষকরা নিজেদের মান ধরে রাখতে পারছেন না।
বলের প্রযুক্তি ও প্রভাব
প্রতি বিশ্বকাপেই নতুন বল তৈরি করে জার্মান কোম্পানি অ্যাডিডাস। ফিফার সঙ্গে বল নিয়ে বিশাল চুক্তি তাদের। এবারের বল 'ত্রিওনদা'তে এমন প্রযুক্তি আছে যা বলে লাগা প্রতিটি স্পর্শ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব করতে পারে। স্নিকোমিটারের সাহায্যে ধরা পড়েছে চুল পরিমাণ অফসাইড, সামান্য হ্যান্ডবল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বড় গোলরক্ষকদের ভুলের পেছনেও বলের ভূমিকা আছে কি না।
ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট ও প্রিমিয়ার লিগজয়ী ক্যাসপার স্মাইকেল এই বলের সমালোচনা করেছেন। স্মাইকেলের অভিযোগ, 'বলটা তৈরি করা হয়েছে মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে। কোনো সেলাই নেই, একসঙ্গে জোড়া দেওয়া। এই বল দিয়ে যখন ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলা হয়, তখন বাতাসের সঙ্গে মিলে বল তেমন একটা ঘোরে না। বাতাসে একটু কম ভাসে। এক সেকেন্ডের তারতম্যও অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।'
গোলরক্ষকদের ভুলের পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপে এবার ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল হয়েছে মোট ২৮টি। এক বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ৩০টি, সেটিও হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। এবার গোলরক্ষকের ভুলে বা বলে হাতের স্পর্শ লেগে গোল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১২ বার। পডকাস্টে জো হার্ট বলেন, 'এই বিশ্বকাপে দেখছি, গোলরক্ষকেরা সহজ শট হাতে লাগাতে পারছেন, কিন্তু থামাতে পারছেন না। এর আগে কখনো দেখেছেন গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল জালে ঢুকে যাচ্ছে? কিছু তো একটা ঘটছে বিশ্বকাপে, যা আমরা জানি না।'
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিকফোর্ড, মেসির বিপক্ষে লুকা জিদান কিংবা এমবাপ্পের বিপক্ষে মেন্দি—সবাইকে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বলটা দেখলেও শেষ মুহূর্তের সামান্য গোলমালে বল থামাতে পারেননি।



