১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনার আকাশে গ্রীষ্মের রোদ তখনও তীব্র। রোজ বোল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে থাকা ৯৪ হাজারেরও বেশি দর্শক যেন অপেক্ষা করছিলেন ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের জন্য। সবুজ ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে দুটি ফুটবল সাম্রাজ্য ব্রাজিল ও ইতালি। চারটি করে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে তারা মুখোমুখি। নব্বই মিনিট, তারপর অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিট। গোল নেই। উত্তেজনা জমাট বাঁধছে। পৃথিবী জানত না, কয়েক মুহূর্ত পর একজন নায়ক ট্র্যাজেডির প্রতীকে পরিণত হবেন, আর একটি জাতি ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।
বিশ্বায়নের সূচনা
১৯৮৮ সালে ফিফা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়, তখন সিদ্ধান্তটি অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর। ফুটবল তখনও আমেরিকার প্রধান খেলা নয়। বেসবল, বাস্কেটবল ও আমেরিকান ফুটবলের ভিড়ে সকার ছিল অনেকটাই প্রান্তিক। মনে করা হয়েছিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব এবার তার আবেগ হারাবে। কিন্তু ফিফার তৎকালীন সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জ ভিন্ন কিছু ভাবছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল ফুটবলকে সত্যিকারের বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করা। তিনি জানতেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারলে ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে। সেই সাহসী সিদ্ধান্তই পরে ইতিহাস বদলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি শুরু করেছিল নিজেদের স্বভাবসুলভ মহিমায়। বিশাল স্টেডিয়াম, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং ব্যাপক প্রচারণা বিশ্বকাপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ডালাস, ডেট্রয়েট, বস্টন, অরল্যান্ড শহরগুলো ফুটবলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল। বিশ্বকাপ শেষে দেখা গেল, মাঠে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ৩৬ লাখেরও বেশি। আজও সেটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
রাজনৈতিক পটভূমি
তবে পৃথিবী শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে। পূর্ব ইউরোপের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। যুগোস্লাভিয়া গৃহযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে। ঠান্ডা যুদ্ধের অবসানের পর বিশ্ব নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। সেই পরিবর্তনের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছিল বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে। এই আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় স্বাধীন রাশিয়া। বিশ্বকাপ অভিষেক হয় গ্রিসের। দীর্ঘ বিরতির পর আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে আসে নাইজেরিয়া। সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়। প্রতিটি দলই যেন নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছিল।
ম্যারাডোনার ট্র্যাজেডি
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজন মানুষ—ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যারা একটি টুর্নামেন্টকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ম্যারাডোনা ছিলেন তেমনই একজন। ১৯৮৬ সালে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন প্রতিভার সর্বোচ্চ রূপ। ১৯৯০ সালে আহত শরীর নিয়েও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। চার বছর পর তিনি ফিরে এসেছেন শেষবারের মতো। সমালোচকরা বলছিলেন, তার সময় শেষ। কিন্তু কিংবদন্তিরা কখনও সহজে বিদায় নেন না। আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল ঝড়ের বেগে। গ্রিসের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়। ম্যারাডোনার গোলের পর ক্যামেরার দিকে ছুটে আসা সেই উন্মত্ত উদযাপন যেন ছিল সমালোচকদের উদ্দেশে এক জবাব। মনে হচ্ছিল, ফুটবলের রাজপুত্র আবারও সিংহাসন ফিরে পেতে চলেছেন। কিন্তু ভাগ্য অন্য গল্প লিখছিল। ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ম্যারাডোনাকে বহিষ্কার করা হয়। ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে যায়। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় তার চোখে ছিল অপমান, হতাশা ও ক্ষোভ। পরে তিনি বলেছিলেন, “তারা আমার পা কেটে ফেলেছে।” সেই একটি বাক্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক উক্তিতে পরিণত হয়েছে। ম্যারাডোনার বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা যেন প্রাণ হারিয়ে ফেলে। দ্বিতীয় রাউন্ডে রোমানিয়ার কাছে হেরে তাদের যাত্রা শেষ হয়।
ব্রাজিলের পুনর্জন্ম
অন্যদিকে ব্রাজিল এসেছিল এক দীর্ঘ হতাশার ইতিহাস নিয়ে। ১৯৭০ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। জিকো, সক্রেটিস, ফ্যালকাও, কারেকাদের মতো তারকারাও ব্যর্থ হয়েছেন। ব্রাজিলিয়ানরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল সুন্দর ফুটবল দেখে হারতে হারতে। এবার তাদের দরকার ছিল শুধু শিরোপা। সেই আশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রোমারিও। ছোটখাটো গড়ন, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব, বিদ্রোহী মানসিকতা এবং গোলের সামনে অবিশ্বাস্য দক্ষতা তাকে আলাদা করে তুলেছিল। তার পাশে ছিলেন বেবেতো। দুজনের সমন্বয় ছিল প্রাণঘাতী।
বিস্ময় ও ট্র্যাজেডি
বিশ্বকাপ শুরু হতেই দেখা গেল বিস্ময়ের পর বিস্ময়। রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো ক্যামেরুনের বিপক্ষে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করে ইতিহাস গড়লেন। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে পাঁচ গোলের সেই রেকর্ড আজও অক্ষত। অন্যদিকে ৪২ বছর বয়সী রজার মিলা আবারও গোল করে প্রমাণ করলেন, ফুটবলে বয়স নয়, হৃদয়ের শক্তিই শেষ কথা। গ্রুপপর্বে সবচেয়ে উজ্জ্বল দলগুলোর একটি ছিল নাইজেরিয়া। রাসিদি ইয়েকিনি, জে-জে ওকোচা, আমুনিকে, ফিনিদি জর্জদের দল খেলছিল এক নির্ভীক ফুটবল। তারা বুলগেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকে জানিয়ে দিল, আফ্রিকা এখন আর শুধু অংশ নিতে আসে না, লড়াই করতেও আসে। সৌদি আরবও বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাঈদ আল-ওয়াইরানের সেই দুরন্ত গোল এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে প্রায় পুরো মাঠ পেরিয়ে গোল করার দৃশ্যটি ছিল যেন স্বপ্ন। কিন্তু আনন্দের মাঝেও লুকিয়ে ছিল ট্র্যাজেডি। কলম্বিয়া এসেছিল বড় প্রত্যাশা নিয়ে। অনেকেই তাদের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ভাবছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করেন আন্দ্রেস এস্কোবার। বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। ফুটবল হঠাৎ করেই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়। একটি আত্মঘাতী গোলের মূল্য কখনও একটি প্রাণ হতে পারে না, কিন্তু কলম্বিয়ার সেই ক্ষত আজও শুকায়নি।
ইতালির রূপকথা ও বাজ্জিওর ট্র্যাজেডি
ইতালির গল্প ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডের কাছে হার। সমালোচনা, হতাশা, অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছিল দলটিকে। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা, যারা যত চাপ বাড়ে তত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ইতালির জন্য সেই শক্তির নাম ছিল রবার্তো বাজ্জিও। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালি বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। ম্যাচের শেষ মিনিটে বাজ্জিও গোল করলেন। অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল। একটি মৃতপ্রায় দল হঠাৎ জীবিত হয়ে উঠল। স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও তিনি নায়ক। এরপর সেমিফাইনালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে ইতালিকে ফাইনালে তোলেন। পুরো ইতালি তখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, বাজ্জিও অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন।
বুলগেরিয়ার রূপকথা
অন্যদিকে বুলগেরিয়া লিখছিল নিজেদের রূপকথা। হ্রিস্টো স্টইচকভের নেতৃত্বে দলটি বিশ্বকাপের অন্যতম বিস্ময়ে পরিণত হয়। গ্রুপপর্বের ধাক্কা সামলে তারা এগিয়ে যায় নকআউট পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সবাই ধরে নিয়েছিল জার্মানি জিতবে। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে সব হিসাব উল্টে দেয়। স্টইচকভের ফ্রি-কিক ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপর ইয়র্ডান লেচকভের হেডার। জার্মানি বিদায়। বিশ্ব হতবাক। বুলগেরিয়া উল্লাসে ভাসছে। একটি ছোট দেশ সেদিন পৃথিবীকে মনে করিয়ে দিয়েছিল, স্বপ্নের কোনো আকার হয় না।
ব্রাজিলের পথ
ব্রাজিল এগিয়ে চলছিল নিঃশব্দে। তারা হয়ত ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের মতো রোমান্টিক ছিল না, কিন্তু ছিল বাস্তববাদী। কার্লোস আলবার্তো পারেইরার দল জানত কীভাবে জিততে হয়। তাদের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। মাঝমাঠ ছিল সুশৃঙ্খল। সামনে ছিলেন রোমারিও ও বেবেতো। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ম্যাচ। ব্রাজিল ২-০ এগিয়ে যায়। ডাচরা ফিরে আসে ২-২ সমতায়। স্টেডিয়ামে উত্তেজনা চরমে। তারপর ব্রাঙ্কোর ফ্রি-কিক। গোল। ব্রাজিল বেঁচে যায়। সেমিফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর রোমারিওর একটি হেডার ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলে দেয়। কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান তখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে এবার অপেক্ষার অবসান হবে।
ফাইনাল: ইতিহাসের সাক্ষী
আর তারপর আসে সেই ফাইনাল। রোজ বোল স্টেডিয়াম। ইতিহাসের ভার যেন বাতাসেও অনুভূত হচ্ছিল। ব্রাজিল ও ইতালি দুই পরাশক্তি মুখোমুখি। দুই দলই সতর্ক। তারা জানে, একটি ভুল সবকিছু শেষ করে দিতে পারে। নব্বই মিনিট কেটে যায়। গোল নেই। অতিরিক্ত সময়ও শেষ। গোল নেই। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। উত্তেজনায় জমাট বাঁধা সেই মুহূর্তে সময় যেন থেমে গিয়েছিল। একের পর এক শট। একের পর এক নিঃশ্বাস। তারপর এগিয়ে আসেন রবার্তো বাজ্জিও। পুরো ইতালি তাকিয়ে আছে। পুরো পৃথিবীও। যে মানুষটি একাই দলকে ফাইনালে তুলেছেন, এখন তার পায়েই দেশের শেষ আশা। বাজ্জিও দৌড়ালেন। শট নিলেন। বল উড়ে গেল বারপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে। মুহূর্তটি যেন সময়কে থামিয়ে দিল। ব্রাজিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। হলুদ জার্সির সমুদ্রে আনন্দের বিস্ফোরণ। রোমারিও জাতীয় নায়ক। বেবেতোর শিশুকে কোলে নেওয়ার অভিনয় করে করা উদযাপন ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল। অন্যদিকে বাজ্জিও দাঁড়িয়ে রইলেন মাথা নিচু করে। সেই ছবিটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্যগুলোর একটি।
উপসংহার
তবে ইতিহাস শুধু শেষ মুহূর্ত দিয়ে বিচার করে না। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ইতালি যদি একটি আত্মা পেয়ে থাকে, তবে তার নাম ছিল রবার্তো বাজ্জিও। তিনি ট্রফি জেতেননি, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে গেছেন। বিশ্বকাপ শেষে গোল্ডেন বল জেতেন রোমারিও। গোল্ডেন বুট যৌথভাবে পান হ্রিস্টো স্টইচকভ ও ওলেগ সালেঙ্কো। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও এই বিশ্বকাপ অনেক স্মৃতি রেখে গেছে। এটি ছিল ম্যারাডোনার শেষ বিশ্বকাপ। ছিল আন্দ্রেস এস্কোবারের অসমাপ্ত জীবন ও আফ্রিকান ফুটবলের নতুন আত্মবিশ্বাসের গল্প। আমেরিকার মাটিতে ফুটবলের বিজয়যাত্রা, রোমানিয়ার সৌন্দর্য ও বুলগেরিয়ার অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। বাজ্জিওর কান্নার সাথে ছিল রোমারিওর অমরত্বের গল্প। সবচেয়ে বড় ছিল ব্রাজিলের পুনর্জন্মের গল্প। ১৯৭০ সালের পর যে সিংহাসন হারিয়ে গিয়েছিল, ১৯৯৪ সালে সেটি ফিরে আসে। সাম্বার দেশ আবারও বিশ্বের শীর্ষে উঠে দাঁড়ায়। সেই জয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল শুধু একটি ট্রফি জেতেনি, ফিরে পেয়েছিল নিজের আত্মবিশ্বাস, নিজের গৌরব, নিজের পরিচয়। আজও যখন ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের কথা বলা হয়, তখন শুধু একটি ফাইনালের ফল মনে পড়ে না। মনে পড়ে ম্যারাডোনার বিদায়ী চোখ, বাজ্জিওর আকাশে উড়ে যাওয়া বল, রোমারিওর হাসি, স্টইচকভের গর্জন, হাজির জাদু, নাইজেরিয়ার সাহস এবং এস্কোবারের নিঃশব্দ ট্র্যাজেডি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ছিল মানুষের স্বপ্ন, বেদনা, গৌরব, পতন ও পুনর্জন্মের এক মহাকাব্য। আর সেই কারণেই, আমেরিকার সেই উত্তপ্ত গ্রীষ্ম আজও ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক অনন্ত প্রতিধ্বনি হয়ে বেঁচে আছে।



