বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০ মহাকাব্যিক ম্যাচ: নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও রোমাঞ্চ
বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০ মহাকাব্যিক ম্যাচ

বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০ মহাকাব্যিক ম্যাচ

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপা জয়ের গল্প নয়, এটি অবিস্মরণীয় কিছু ম্যাচেরও নাম। কয়েক দশক ধরে বিশ্বকাপ মঞ্চে এমন অনেক লড়াই হয়েছে, যা এখনো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। ফিরে দেখা যাক বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি সেরা ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ।

পর্তুগাল ৫-৩ উত্তর কোরিয়া (ইংল্যান্ড ১৯৬৬, কোয়ার্টার ফাইনাল)

গ্রুপ পর্বে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিল পর্তুগাল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়া প্রথমেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। এরপর কিংবদন্তি ইউসেবিওর চার গোলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল।

ইতালি ৪-৩ পশ্চিম জার্মানি (মেক্সিকো ১৯৭০, সেমিফাইনাল)

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ‘শতাব্দীর ম্যাচ’ হিসেবে পরিচিত এই লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় পশ্চিম জার্মানি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে দুই দল পাল্টাপাল্টি গোল করে। শেষ পর্যন্ত জিয়ান্নি রিভেরার গোলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইতালি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতালি ৩-২ ব্রাজিল (স্পেন ১৯৮২, দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব)

দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার কারণে পাওলো রসিকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্তু কোচ এনজো বেয়ারজট তার ওপর আস্থা রাখেন। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে হ্যাটট্রিক করেন রসি এবং তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ব্রাজিল বিদায় নেয়।

ফ্রান্স ৩-৩ পশ্চিম জার্মানি (টাইব্রেকারে ৪-৫, স্পেন ১৯৮২ সেমিফাইনাল)

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্স ৩-১ গোলে এগিয়ে গেলেও পশ্চিম জার্মানি ফিরে আসে। শেষে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে জার্মানরা।

ব্রাজিল ১-১ ফ্রান্স (টাইব্রেকারে ৩-৪, মেক্সিকো ১৯৮৬ কোয়ার্টার ফাইনাল)

কেরেকার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। পরে মিশেল প্লাতিনির গোলে সমতা ফেরায় ফ্রান্স। নাটকীয় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে জয় পায় ফরাসিরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেদারল্যান্ডস ২-৩ ব্রাজিল (যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪, কোয়ার্টার ফাইনাল)

রোমারিও ও বেবেতোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। তবে নেদারল্যান্ডসও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত ব্রাঙ্কোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল, যারা পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।

আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়, ফ্রান্স ১৯৯৮, শেষ ষোল)

মাইকেল ওভেনের অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল, ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই—সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ। টাইব্রেকারে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।

জার্মানি ০-২ ইতালি (জার্মানি ২০০৬, সেমিফাইনাল)

নির্ধারিত সময়ে গোল না হলেও ম্যাচজুড়ে ছিল রোমাঞ্চ। অতিরিক্ত সময়ে ফাবিও গ্রোসো গোল করে ইতালিকে এগিয়ে দেন। পরে আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো আরেকটি গোল করে ইতালির ফাইনাল নিশ্চিত করেন।

পর্তুগাল ৩-৩ স্পেন (রাশিয়া ২০১৮, গ্রুপ পর্ব)

বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি ছিল এই ম্যাচ। স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে করা তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলটি পর্তুগালকে হার থেকে বাঁচায়।

ফ্রান্স ৩-৩ আর্জেন্টিনা (টাইব্রেকারে ৩-৪, কাতার ২০২২ ফাইনাল)

অনেকের মতে, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনাল। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শিরোপার পথে এগিয়ে থাকলেও কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ম্যাচে ফিরে আসে ফ্রান্স। অতিরিক্ত সময়েও দুই তারকার গোলের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জয় পেয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করে আর্জেন্টিনা।

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই, টাইব্রেকারের উত্তেজনা আর কিংবদন্তিদের অসাধারণ পারফরম্যান্স—এই ম্যাচগুলোই বিশ্বকাপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরে পরিণত করেছে।