ক্রীড়া তারকারাও ভোটের অপেক্ষায়: মোরসালিন, জ্যোতি, সাবিনা ও আমিরুলের প্রত্যাশা
হঠাৎ করেই নীরব হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। ট্রেন-বাসে করে মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়িতে। চারদিকে যেন ঈদের আমেজ। যদিও এটি ঈদ নয়—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্ত। একদিন পরই বৃহস্পতিবার কাঙ্ক্ষিত ভোটের দিন। ছুটি পেয়ে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন মানুষ। অন্য সবার মতো ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও প্রস্তুত ভোট দেওয়ার জন্য। মাঠের তারকারা কে কোথায় ভোট দেবেন? কেমন প্রার্থী প্রত্যাশা তাদের?
শেখ মোরসালিন: প্রথমবার ভোটের উদ্দীপনা
জাতীয় দলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিন তখন ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর আগে ভোটার হলেও খেলার ব্যস্ততায় ভোট দেওয়া হয়নি। এবার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে মোরসালিন বলেছেন, 'আমি আগে ভোটার হয়েছিলাম, কিন্তু খেলা থাকায় ভোট দিতে পারিনি। এবার খেলা নেই। তাই ভোট দিতে রাতেই বাড়ি চলে এসেছি। প্রথমবার ভোট দেবো—উদ্দীপনাটা অন্যরকম।'
নিজের প্রত্যাশার কথাও স্পষ্ট করে বলেন এই তরুণ ফুটবলার। তার ভাষ্য, 'আমি মনে করি যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত, যিনি দেশের জন্য কাজ করবেন, তরুণ প্রজন্মের কথা ভাববেন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রাখবেন।'
২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছেন। খেলাধুলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেছেন, 'আমি চাই খেলাধুলা-প্রীতি আছে, এমন প্রার্থী নির্বাচিত হোক। এতে খেলার উন্নয়ন হবে, তরুণরা উপকৃত হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।'
নিগার সুলতানা জ্যোতি: গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সদ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে নিজ এলাকা শেরপুর সদরে অবস্থান করছেন তিনি। ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা জ্যোতি বললেন, 'ভোট দেওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সবারই তা প্রয়োগ করা উচিত। আমি মনে করি যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া দরকার। যারা জিতবেন, তারা যেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন এবং নির্বাচনের পর নিজেদের এলাকার মানুষের কথা ভুলে না যান।'
সাবিনা খাতুন: প্রথমবার ভোট ও এলাকার উন্নয়ন
নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্যের আরেক নাম সাবিনা খাতুন। তার অধিনায়কত্বে নেপালে টানা দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এসেছে সাফ ফুটসাল শিরোপাও। বর্তমানে সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন সাবিনা। ৩২ বছর বয়সী এই অধিনায়ক বলেছেন, 'খেলার ব্যস্ততার কারণে আগে ভোট দিতে পারিনি। এবারই প্রথম ভোট দেবো। আমি চেষ্টা করবো যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে, যাতে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হয় এবং খেলাধুলা এগিয়ে যায়।'
আমিরুল ইসলাম: প্রথমবার ভোটের উত্তেজনা
ফুটবল-ক্রিকেটের বাইরে হকিতেও রয়েছে বাংলাদেশের উজ্জ্বল মুখ। বিশ্বকাপ হকিতে সর্বোচ্চ গোল করে আলোচনায় আসা আমিরুল ইসলাম এখন জাতীয় দলের প্রস্তুতির ফাঁকে ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে। ২০ বছর বয়সী এই তারকা বলেছেন, 'আমি প্রথমবার ভোট দেবো। তাই আলাদা রকম উত্তেজনা কাজ করছে। সকালেই ভোট দিতে যাবো। নিজের এলাকা ও দেশের জন্য যিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবেন, তাকেই ভোট দেবো।'
১২ ফেব্রুয়ারি—এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। অপেক্ষায় ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও। ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন প্রকাশ করছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
