পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কখনো হারাতে পারেনি নরওয়ে। কিন্তু এই ইতিহাস পেছনে রেখেও আর্লিং হলান্ডের মন্তব্য চমকে দেওয়ার মতো। শেষ ১৬–এর ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা নাকি কমই দেখছেন এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫ গোল করা নরওয়ের স্ট্রাইকার।
ইতিহাসের দ্বৈরথ
নরওয়ে–ব্রাজিলের ফুটবল দ্বৈরথের গল্প বেশ পুরোনো। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের কথা ফুটবলপ্রেমীদের হয়তো এখনো মনে আছে। স্তাদ ভেলোড্রোমে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে রোনালদো, রিভালদো, কাফুদের নিয়ে গড়া মারিও জাগালোর শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ভাইকিংসরা।
শুধু তা-ই নয়, এর আগে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচেও একবার জিতেছিল নরওয়ে, অন্যটি হয়েছিল ড্র। এমনকি ২০০৬ সালের শেষ প্রীতি ম্যাচটিও শেষ হয় ১-১ সমতায়। অর্থাৎ, ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবারের দেখায় নরওয়ের জয় দুটি, বাকি দুটি ড্র।
বর্তমান বাস্তবতা
কিন্তু সব ইতিহাস তো আর বর্তমানের ফল নির্ধারণ করে দেয় না। নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপে আসাটাই ছিল এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে তারা। গতকালের ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হলান্ড বলেন, ‘সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
শেষ ষোলোতে ওঠা এবং সামনে ব্রাজিলের মতো প্রতিপক্ষকে নিয়ে সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেন, ‘এখন আমরা শেষ ষোলোতে উঠেছি। সামনে দুর্দান্ত সব দলের মুখোমুখি হতে হবে, তাই কাজটা মোটেও সহজ হবে না। পরের ধাপে যাওয়া খুবই কঠিন হবে। আমরা পারব কি না, সেটাও জানি না। তবে আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এখনো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’
নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস
নরওয়ে এর আগে যে তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছে, তার মধ্যে দুবারই বিদায় নিতে হয়েছে এই শেষ ষোলো থেকে। ২৮ বছর পর ফিরে এসে আবার সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দল। এবার সামনে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিল। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নামার আগে তাই কোনো আকাশকুসুম স্বপ্ন নয়, বরং নিজেদের প্রাপ্তিটাকেই বড় করে দেখছেন হলান্ড।
কিছুটা আবেগঘন কণ্ঠে হলান্ড বলেন, ‘এটা একটা ইতিহাস, অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো আমরা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছি, গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছি, আর এখন নকআউট পর্বেও উঠে নিউইয়র্কে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। এখন থেকে যা-ই হবে, সবই আমাদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি।’
আগামী ম্যাচ
পুরোনো ইতিহাস আর নতুন রোমাঞ্চের গল্প নিয়ে ৫ জুলাই নকআউট পর্বের ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল–নরওয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ইতিহাসের অপরাজেয় রেকর্ড ধরে রেখে নরওয়ে কি পারবে নতুন কোনো রূপকথা লিখতে, নাকি অতীত সমীকরণ চূর্ণ করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটবে ব্রাজিল—আর চার দিন পরই জানা যাবে সেই উত্তর।



