প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে কেপ ভার্দে। নকআউটে আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলার আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শিরোপাজয়ী দলের বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকে চমকে আফ্রিকার দেশটি। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াই
আজ শনিবার সকালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পরও ৩-২ গোলে হেরে যায় কেপ ভার্দে। স্বপ্নের বিশ্বকাপ শেষ কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপ থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো, এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না, কেপ ভার্দে কোথায়। শুধু এটিই আমাদের জন্য একটি ইতিহাস। আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছি।’
ছোট দেশের বড় পরিচয়
মাত্র ৫ লাখ মানুষের ছোট্ট একটি দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশই দেশটিকে ঠিকমতো চিনত না। অনেকের কাছেই দেশটির নাম ছিল অপরিচিত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ছবিটা বদলে গেছে। মাঠে সাহসী ফুটবল খেলেছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ভয় পায়নি। হার মেনেছে, কিন্তু কখনো আত্মসমর্পণ করেনি। শেষ বত্রিশে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করেছে।
বড় সাফল্য পদক নয়, পরিচয়
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো কোনো পদক নয়, বরং একটি পরিচয়। এখন ফুটবলপ্রেমীরা জানে, কেপ ভার্দে শুধু আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপদেশ নয়। এটি এমন একটি দল, যারা সুযোগ পেলে বিশ্বের সেরাদের চোখে চোখ রেখে লড়তে পারে। এই বিশ্বকাপে তারা কোটি মানুষের সম্মান কুড়িয়ে নিয়েছে। নিজেদের গল্প নিজেরাই লিখেছে। আর সেটিই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় জয়।



