সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে শিগগিরই সারা দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং শিশু ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি বাড়িতে যাবে, ফ্যামিলি কার্ডের কাছে কারও যাইতে হবে না।’ আজ শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
কিভাবে কাজ করবে ফ্যামিলি কার্ড?
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সেখান থেকে কম্পিউটারে আপলোড করা হবে। সেখান থেকে অটোমেটিক্যালি জেনারেট হবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত, কারা নন। ফ্যামিলি কার্ড সবাই পাবেন। কিন্তু উপকারভোগী নির্বাচন হবে কম্পিউটারের পিএমটি স্কোরিংয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীকালে এটা কিছুটা যাচাই-বাছাই হবে। ইনশা আল্লাহ, সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় রংপুর শহরসহ সর্বত্র এটি চালু হয়ে যাবে।’
পাইলটিং ও দুর্নীতি প্রসঙ্গ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যে প্রোগ্রাম, তা খুব দ্রুত সারা বাংলাদেশে একযোগে শুরু হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিগত তিন মাস পাইলটিং করেছি বাংলাদেশে ৫৮টি ওয়ার্ডে। আমাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর দুর্বলতাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। এটা যাতে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি। কোনো পারসেন্টেজ নেই। দুর্নীতি করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।’
প্রতিবন্ধী স্কুলের সমস্যা ও সমাধান
প্রতিবন্ধী স্কুল প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বড় সমস্যা হচ্ছে শিক্ষকসংকট। প্রতিবন্ধীদের ট্রেইন-আপ করার জন্য বাংলাদেশে একটিমাত্র কলেজ আছে, মিরপুরে। প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদনের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি জেলায় যাতে স্ট্যান্ডার্ড প্রতিবন্ধী স্কুল থাকে, আর প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম যাতে একটা করে হয়, সে জন্য আমরা প্রতিবন্ধী স্কুলের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করছি।’



