বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার রাত ১টায় হট ফেভারিট স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। তার আগে বেলজিয়ামের তারকা গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া বলেছেন, স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখানোর সামর্থ্য বেলজিয়ামের আছে। তার মতে, টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই সেরা ছন্দে ফিরছে তারা।
কোর্তোয়ার আত্মবিশ্বাস
সাংবাদিকদের কোর্তোয়া বলেছেন, ‘আমাদের দলের সবাই বিশ্বাস করে, এটা সম্ভব। আমাদের এমন একটি শক্তিশালী দল আছে, যার সামর্থ্য স্পেনকেও বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি মনে করেন, এই টুর্নামেন্টে এবারের চমক হতে পারে বেলজিয়াম, ‘প্রতিটি টুর্নামেন্টেই চমক থাকে। সেটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হোক, ইউরোপা লিগ কিংবা বিশ্বকাপ। সব সময়ই অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে। আমি মনে করি, এবার সেই চমক দেখাতে পারি আমরাই। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের হারাতে পারলে সেটি অবশ্যই বড় অঘটন হবে। আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’
বেলজিয়ামের পথচলা
শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। তবে গ্রুপ পর্বে খুব একটা ছন্দে ছিল না তারা। মিসর ও ইরানের সঙ্গে ড্র করার পর শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা।
শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষেও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় বেলজিয়ামকে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। পরে দারুণ প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে ৩-২ গোলে জয় তুলে নেয়।
ধীরে ধীরে উন্নতি
কোর্তোয়া বলেছেন, ‘অনেকেই আমাদের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছিল। তবে আমরা সেই হতাশা কাটিয়ে উঠেছি। ম্যাচ ধরে ধরে আরও ভালো খেলছি।’
স্পেনকে এগিয়ে রেখেই মাঠে নামছে বেলজিয়াম। তবে প্রতিপক্ষের দুর্বলতার জায়গাও খুঁজে পেয়েছেন কোর্তোয়া। তিনি বলেছেন, ‘স্পেন অবশ্যই ফেভারিট। বল দখলে তারা অসাধারণ। আর বল হারালেই দ্রুত প্রেসিং শুরু করে। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে তাদের ডিফেন্সের পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো দ্রুত কাজে লাগানো।’
স্পেনের সঙ্গে কোর্তোয়ার সম্পর্ক
স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গে কোর্তোয়ার পরিচয় দীর্ঘদিনের। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক।
তিনি বলেছেন, ‘আমি ১১ বছর ধরে স্পেনে বসবাস করছি। সেখানে জীবনযাত্রার ধরন কিছুটা আলাদা, আবহাওয়াও ভালো। তবে দিনের শেষে আমি একজন বেলজিয়ান। স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরও সম্ভবত সেখানেই বসবাস করবো। আমার দুই সন্তানও স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ানের চেয়ে স্প্যানিশ সংস্কৃতির কাছাকাছি। কিন্তু এই ম্যাচে আমার সব মনোযোগ থাকবে শুধু বেলজিয়ামের দিকেই।’



