বালোগানের লাল কার্ড: মেসির ঘটনার সঙ্গে তুলনায় ক্ষোভ
বালোগানের লাল কার্ড: মেসির ঘটনার সঙ্গে তুলনায় ক্ষোভ

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই জয়ের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগানের লাল কার্ড।

ঘটনার বিবরণ

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েন বালোগান। দৌড়ের সময় মুহারেমোভিচ এগিয়ে গেলে বল তার সামনে পড়লে তিনি বাঁ পায়ের শটে ক্লিয়ার করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে বালোগান পেছন থেকে ডান পা দিয়ে মুহারেমোভিচের ডান পায়ের গোড়ালির পেছনের অংশ মাড়িয়ে দেন।

রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে ফাউলের বাঁশি বাজাননি, ফ্রি-কিকও দেননি। দুই খেলোয়াড়ই চোট পেয়ে মাঠে পড়ে থাকলে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। ভিএআর কর্মকর্তারা ক্লাউসকে মনিটর দেখার পরামর্শ দেন এবং সেখানে ভিডিও রিপ্লে দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেসির ঘটনার সঙ্গে তুলনা

বালোগানের লাল কার্ডের পরই ফুটবল বিশ্বে তুলনা চলে আসে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির একটি ঘটনার সঙ্গে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশ মাড়িয়ে দেন মেসি। আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের দাবি জানালেও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও কোনো কার্ড দেখাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, 'ঠিক এই জায়গাগুলোতে মানুষ ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সবাই নিয়মের একই প্রয়োগ দেখতে চায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির সেই ট্যাকল আমাদের সবার মনে আছে। অনেকেরই ধারণা, ওটা সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল, অথচ সেটি ঠিকঠাক খতিয়ে দেখা হলো না, কোনো শাস্তিও দেওয়া হলো না। আর এখন বালোগানের ট্যাকলটা দেখুন—ভিএআর মাঝে নাক গলাল, রেফারি মনিটর দেখতে গেলেন এবং আচমকাই সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়া হলো। এই যে আলাদা নিয়ম, এটাই খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করে।'

ধারাভাষ্যকার ও কোচদের প্রতিক্রিয়া

বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথ বলেন, 'রিপ্লে দেখার সময় ফ্রেমটা যখন আটকে রাখা হয়, তখন আপনার মনে হতেই পারে, এটা শতভাগ লাল কার্ড পাওয়ার মতোই অপরাধ। কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে দেখলে সিদ্ধান্তটা বড্ড বেশির কঠোর হবে।' তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'দুর্ভাগ্যবশত তার পা-টা ভুল জায়গায় পড়ে গেছে।'

বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, 'মাঠের খেলা নিয়ে কথা বলার বদলে এখন আমাদের রেফারিদের নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিয়ান বালোগান এমন কোনো অপরাধ করেনি, যার জন্য ওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে হবে। এত বড় একটা ম্যাচে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, যা পরে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।'

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও দাবি করেন, লাল কার্ড দেখার মতো অপরাধ করেননি বালোগান, 'এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যই ওর ছিল না।' মেসির একই রকম ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পচেত্তিনো বলেন, 'দুটির কোনোটিই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল না।'

পরবর্তী ম্যাচে প্রভাব

লাল কার্ডের কারণে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না বালোগান। এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে ভিএআর ব্যবহার এবং নিয়মের সমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।