মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে চাঁদা সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। ‘পূর্ব সিংগুর নতুন কুঁড়ি ক্লাব’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের পাশাপাশি কিছু স্থানে সিমেন্ট-কংক্রিটের (সিসি) ঢালাই দিয়েছেন।
গ্রামের রাস্তার দুর্ভোগ লাঘবে তরুণদের উদ্যোগ
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুলাউড়া-ভাটেরা পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত সিংগুর গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। পাকা সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের দুটি রাস্তা আছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় আধা কিলোমিটার। ১০-১৫ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে এসব রাস্তায় ইট বসানো হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ অবস্থায় গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংগঠনটি রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংগঠনের সদস্যরা এলাকার প্রবাসী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেন। ওই অর্থ দিয়ে ইট, বালুসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা হয়।
স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ ও সমাপ্তি
গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় সংস্কারকাজ। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য পালাক্রমে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। গত বুধবার কাজ সম্পন্ন হয়। পাকা সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের সংযোগস্থলের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকায় সিমেন্ট-কংক্রিটের ঢালাইও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী বশির আল ফেরদাউস বলেন, “দুটি রাস্তার কাজ গতকাল শেষ হয়েছে। এখন রাস্তার দুই পাশের ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও বলেন, বোরো মৌসুমে এলাকার কৃষকেরা এই দুটি রাস্তা ব্যবহার করে হাকালুকি হাওরের জমিতে যাতায়াত করেন। তবে রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে রাস্তা তলিয়ে যায়। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙে পড়ে। তিনি রাস্তা রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে দুটি কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানান।
সংগঠনের পূর্ববর্তী কার্যক্রম
বশির আল ফেরদাউস জানান, কৃষকছাউনি এবং রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি ২০২৩ সালে তাঁদের সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ৫০টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে হাকালুকি হাওরে কৃষকদের রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দিতে একটি কৃষকছাউনি নির্মাণ করে সংগঠনটি।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি জানা ছিল না বলে জানান বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে গ্রামের লোকজন যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, “স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সংগঠন বা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সিংগুর গ্রামের রাস্তার পানিনিষ্কাশন ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”



