বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের হৃদয়বিদারক হার: থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে পরাজয়
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল একটি নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। শনিবার থাইল্যান্ডের বিপক্ষে পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছিলেন মোসাম্মত সাগরিকা, যিনি দুটি গোল করেও শেষ পর্যন্ত দলের মুখে হাসি ফোটাতে পারেননি।
ম্যাচের শুরু এবং বাংলাদেশের প্রতিরোধ
ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। প্রথম ২০ মিনিট বাংলাদেশ শুধু থাইল্যান্ডের আক্রমণই ঠেকিয়েছে, মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রাখতে পারেনি। স্বপ্না রানী ও শান্তি মার্ডির মতো খেলোয়াড়রা বারবার বল হারিয়েছেন, যা কোচ পিটার বাটলারের নজর এড়ায়নি। ২৬ মিনিটে তিনি একটি কৌশলগত পরিবর্তন এনে মিডফিল্ডার স্বপ্নাকে উঠিয়ে পূজা দাসকে নামান। এই পরিবর্তনটি ছিল এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের মতো, যেখানে পূজা রক্ষণকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মাঝমাঠে নতুন কৌশল আঁকতে সাহায্য করেন।
সাগরিকার দুর্দান্ত গোল এবং বাংলাদেশের এগিয়ে থাকা
৩৬ মিনিটে মৌমিতা খাতুনের বুদ্ধিদীপ্ত পাস ধরে একাই বক্সে ঢুকে পড়েন সাগরিকা এবং পেছন থেকে থাই ডিফেন্ডারদের দৌড় আসার আগেই বলটি জালে পাঠিয়ে দেন। এর আগে ২৮ মিনিটে থাইল্যান্ড একটি ফ্রি-কিক পেলেও গোলকিপার মিলি আক্তারের দৃঢ় প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। বিরতিতে যাওয়ার আগে থাইল্যান্ড আরও দুবার আক্রমণ করলেও গোল করতে পারেনি, ফলে বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তা
বিরতির পর ৫০ মিনিটে উমহেলা মারমার পাস থেকে নিখুঁত শটে সাগরিকা আবারও গোল করেন, বাংলাদেশের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে ২-০ হয়। কিন্তু থাইল্যান্ড দুই গোল হজম করেও দমে যায়নি। ৬৯ মিনিটে একটি পেনাল্টি থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচ গোল করে থাইল্যান্ডের স্কোর খুলে দেন। ৭৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে আরেকটি ভুলের সুযোগ নিয়ে রিন্যাফাত মুনডং পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান। সমতায় ফেরার পর থাইল্যান্ড নতুন উদ্যমে লড়াই শুরু করে এবং ৭৯ মিনিটে বাংলাদেশের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে পিচায়াটিদা মানোওয়াং তৃতীয় গোলটি করেন। বাকি সময় বাংলাদেশ আর সেভাবে লড়তে পারেনি, ফলে ম্যাচটি হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আফঈদা-অর্পিতাদের।
প্রতিপক্ষের শক্তি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
থাইল্যান্ডের কাছে এমন হার মেনে নিতে কষ্ট হলেও প্রতিপক্ষের শক্তি এবং অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে তেমন হতাশার কিছু নেই। থাইল্যান্ড ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলেছে এবং এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অষ্টমবারের মতো অংশ নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে। এই প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল, যা একটি বড় অর্জন। শনিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ চীনের মুখোমুখি হবে, যেখানে দলটি নতুন করে লড়াই করার সুযোগ পাবে।



