অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ: থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের 'আসল' পরীক্ষা শুরু
অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের চ্যালেঞ্জ

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের অভিষেক

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ হবে থাইল্যান্ড। পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।

দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ার মঞ্চে

এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল মূলত দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের দাপট ছিল লক্ষণীয়। অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ছয়বার অংশ নিয়ে পাঁচবার শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ের লড়াই কতটা কঠিন হতে পারে, সেটি এখনো পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি তারা। আজ থেকে শুরু হচ্ছে সেই এশিয়ান চ্যালেঞ্জ গ্রহণের যাত্রা।

বাছাইপর্বে সফলতা ও কোচের প্রত্যাশা

এই মূল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ দলকে কঠিন বাছাইপর্ব পার করতে হয়েছে। গত আগস্টে লাওসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিনটি ম্যাচে দুটি জয় নিশ্চিত করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার এই টুর্নামেন্টকে অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। থাইল্যান্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের জন্য এটি প্রথম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য একটি বড় অর্জন। আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক টুর্নামেন্ট হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের শক্তি ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি

প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে তারা। এশিয়ান কাপে খেলাটাও তাদের জন্য প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এই টুর্নামেন্টে অষ্টমবারের মতো অংশ নিচ্ছে থাইল্যান্ড।

কোচ বাটলার থাইল্যান্ড দল নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'থাইল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ। তারা নারী দলের প্রতি খুবই মনোযোগী। আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।'

সাম্প্রতিক রেকর্ড ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক ফলাফলের দিকে তাকালে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অনূর্ধ্ব-২০ দল তাদের শেষ পাঁচটি ম্যাচে মাত্র একবার হারিয়েছে, সেটি ছিল গত আগস্টে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে দুটি হার রয়েছে।

তবে ফুটবলকে সবসময় রেকর্ডের ছাঁচে ফেলা যায় না। থাইল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা থেকেই যায়। কোচ বাটলারও একটি লড়াকু ম্যাচের আভাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'মেয়েরা বাছাইপর্বে যেমন লড়াই করেছে, আমার বিশ্বাস, এখানেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।'

গ্রুপের অন্যান্য শক্তিশালী দল

থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্বে আরও দুটি শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে হবে। চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচগুলো বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হবে। চীন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে দুবার রানার্সআপ হয়েছে এবং ২০০৬ সালে এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। ভিয়েতনাম আসিয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে চারবার ফাইনাল খেলেছে এবং এশিয়ান কাপে ছয়বার অংশ নিয়ে ২০০৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে।

বড়দের এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই অনূর্ধ্ব-২০ দলটি সেই হতাশা কাটাতে পারে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।