দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইরাক ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। বাছাইপর্ব পেরিয়ে ৪৮তম এবং শেষ দল হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাক তাদের স্বপ্ন পূরণ করেছে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে ‘লায়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া’ নামে পরিচিত ইরাকি ফুটবল দলকে।
ম্যাচের বর্ণনা
মেক্সিকোর মন্টেরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখিয়েছে ইরাক। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় আলি আল হামাদির গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে ময়েজেস পানিয়াগুয়ার গোলে সমতায় ফেরে বলিভিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সমানে সমান লড়াই করলেও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন আয়মান হোসেন। তার করা জয়সূচক গোলটিই ইরাককে পৌঁছে দেয় স্বপ্নের বিশ্বকাপে।
ঐতিহাসিক মুহূর্ত
যেদিন চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিনবার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল, ঠিক সেই রাতেই মন্টেরির গ্যালারিতে বইছিল ইরাকি সমর্থকদের আনন্দের জোয়ার। জেন্নারো গাত্তুসোর দল যখন হারের ক্ষত নিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছে, তখন ইরাক মেতেছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা উৎসবে। এই বিজয় শুধু একটি খেলা জয় নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য এক পশলা স্বস্তি এবং আশার বার্তা বয়ে এনেছে।
বিশ্বকাপ গ্রুপ ও সময়সূচি
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরাক খেলবে ‘আই’ গ্রুপে। সেখানে তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে এবং সেনেগাল। এই গ্রুপে প্রতিযোগিতা হবে চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু ইরাকের এই অর্জন ইতিমধ্যেই দেশটির ফুটবল প্রেমীদের জন্য বিশাল উৎসাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক প্রভাব
ইরাকিদের জন্য ফুটবলের এই সাফল্য কেবল উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং ফুটবল পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসে এই মুহূর্তটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, যা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ইরাকের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা ইরাকের এই যাত্রা শুধু ক্রীড়া ক্ষেত্রেই নয়, বরং জাতীয় গর্ব ও ঐক্যেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



