৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাকের ঐতিহাসিক ফেরা, বলিভিয়াকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ
বিশ্বকাপে ইরাকের ফেরা, বলিভিয়াকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে

৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাকের ঐতিহাসিক ফেরা, বলিভিয়াকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ

মেক্সিকোর গুয়াদালুপ স্টেডিয়ামে আজ বুধবার সকালে শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগ যেন বাঁধ ভেঙে গেল। একদিকে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে মেতে উঠেছে ইরাক, অন্যদিকে কাছাকাছি গিয়েও শেষ ধাপে পৌঁছাতে না পারায় কান্নায় ভাসছে বলিভিয়ান খেলোয়াড়রা। পোস্টের নিচে বসে বলিভিয়ান গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারার কান্না যে কারও হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। কিন্তু ফুটবল তো এমনই খেলা—কারও কান্নার বিপরীতে উচ্ছ্বাসে ভাসে অন্য কেউ। আজ সেই শেষ হাসিটা হেসেছে ইরাক, বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটে নিয়েছে এশিয়ান দেশটি।

ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ গতিপথ

সবুজে ঘেরা পাহাড়ি অরণ্যের মাঝে অবস্থিত ভেন্যুতে আজ শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে উঠেছিল ম্যাচ। আক্রমণ ও বল দখলে বলিভিয়া এগিয়ে থাকলেও কার্যকারিতায় ইরাক ছিল অনন্য। ম্যাচের ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ইরাক, ফ্রি-কিক থেকে আল আমারির নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে বলিভিয়াকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। তবে পরের মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় ইরাক—আল-আমারির কর্নারে দারুণ এক হেড দিয়ে এশিয়ান দেশটিকে এগিয়ে দেন আল-হামাদি।

পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে উঠে বলিভিয়া, ইরাককে চাপে ফেলে ম্যাচে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে তারা। একাধিকবার কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৩৮ মিনিটে সমতা ফেরায় তারা, বলিভিয়ার হয়ে গোল করেন মইসেস পানিয়াগুয়া। সমতাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ, বিরতির পর দুই দলই চেষ্টা করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। পাল্টাপাল্টি একাধিক আক্রমণেও যায় তারা, যদিও গোলের হাসিটা হেসেছে ইরাকই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরাকের জয় ও বলিভিয়ার হতাশা

বদলি নামা মার্কো ফারজির পাসে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ইরাককে সমতায় ফেরান আইমেন হুসেইন, যা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বলিভিয়া চেষ্টা করেছে লড়াইয়ে ফেরার, বিশেষ করে শেষ কয়েক মিনিটে ইরাককে কোণঠাসা করে একের পর এক আক্রমণেও গেছে তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলটা আর ধরা দেয়নি, ২-১ গোলের জয়ে ৪৮তম দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইরাক।

এই জয়ে ইরাক ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। অন্যদিকে, বলিভিয়ার জন্য এটি একটি বড় হতাশা, যারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছিল। ফুটবল বিশ্বে আজকের এই ম্যাচ আবেগ, সংগ্রাম ও বিজয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।