টানা তিন বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি: পেনাল্টিতে বসনিয়ার কাছে হেরে ইতিহাস গড়ল ইতালি
চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ফুটবল দল এবারও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেল না। মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মাটিতে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিল আজ্জুরিরা। এই হারের ফলে ইতালি পরপর তিনটি বিশ্বকাপ মিস করা প্রথম সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল বনে গেল। দলের বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, যা দলের জন্য একটি বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ম্যাচের বর্ণনা ও নাটকীয় সমাপ্তি
ম্যাচে মোইজে কিন আগেভাগেই ইতালিকে এগিয়ে দেন। কিন্তু বিরতির আগেই সেন্টারব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার বদলি খেলোয়াড় হারিস তাবাকোভিচ সমতা ফেরান। ১০ জনের ইতালি নিয়ে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হয়, কিন্তু কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
শুটআউটে পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে পেনাল্টি মিস করেন। আর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া এসমির বাজরাক্তারেভিচ নির্ধারক পেনাল্টি গোল করে বসনিয়াকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান। বাজরাক্তারেভিচ যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অ্যাপলটন শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে বসনিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন, যা এই ম্যাচের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইতালির ক্রমাগত পতন ও ঐতিহাসিক রেকর্ড
এর আগে সুইডেন ও উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে গত দুটি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেই ছিটকে গিয়েছিল ইতালি। ২০০৬ সালের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর পর থেকে নকআউট পর্বে আর কোনো জয় নেই তাদের। ২০১৪ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাই হয়ে আছে বিশ্বমঞ্চে তাদের শেষ জয়, যা দলের ক্রমাগত অবনতির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
কাগজে-কলমে এটা ছিল এক অসম লড়াই। ফিফা র্যাংকিংয়ে ইতালির অবস্থান ১২তম, আর বসনিয়া তাদের চেয়ে ৫৪ ধাপ পিছিয়ে। ইতালির জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি, আর বসনিয়ার মাত্র ৩৫ লাখ, যা এই হারকে আরও বিস্ময়কর করে তোলে।
অন্য প্লে-অফ ফাইনালের ফলাফল
এদিকে মঙ্গলবারের অন্য প্লে-অফ ফাইনালে সুইডেন ও তুরস্ক বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। সুইডেন পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে, যেখানে ৮৮ মিনিটে ভিক্তর গিওকেরেস জয়সূচক গোল করেন। পোল্যান্ডের রবার্ট লেভান্ডভস্কি, যার বয়স এখন ৩৭, সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন।
তুরস্ক কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠেছে। চেকিয়াও পেনাল্টি শুটআউটে ডেনমার্ককে হারিয়ে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এই ফলাফলগুলি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে ইতালির অনুপস্থিতি একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



