আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার প্রধান ক্লদিয়া তাপিয়া কর ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত
বুয়েনস এইরেসের এক বিচারক আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা (এএফএ)-এর প্রধান ক্লদিয়া তাপিয়া ও তাঁর চার সহকর্মীকে কর ফাঁকির অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছেন। বিচারক তাপিয়ার বিরুদ্ধে ‘করের অর্থের অপব্যবহার’ এবং ‘সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল তছরুপ’ করার অভিযোগে বিচার চলমান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জামানত হিসেবে ৩৫ কোটি আর্জেন্টাইন পেসো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত ও প্রতিক্রিয়া
তাপিয়ার ঘনিষ্ঠ এএফএর ট্রেজারার পাবলো তোভিগ্গিনও অভিযুক্ত হয়েছেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পদ ব্যবহারও স্থগিত করা হয়েছে। এই রায় এসেছে আর্জেন্টিনার কর সংস্থা (এআরসিএ)-এর দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এএফএ এবং এর কর্মকর্তারা প্রায় ১৯ বিলিয়ন পেসো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকার কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন।
তাপিয়া এবং অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১২ মার্চ মামলার প্রাথমিক তদন্তে বিচারকের সামনে হাজির হয়েছিলেন। এএফএ অবশ্য এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে এবং এর পেছনে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের চাপ থাকার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আর্জেন্টিনার একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তারা ‘কুৎসামূলক প্রচারণার’ শিকার হচ্ছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রভাব
২০১৭ সাল থেকে এএফএ–এর দায়িত্বে আছেন তাপিয়া। তাঁর নেতৃত্বাধীন এএফএ–এর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য অভিযোগও আনা হয়েছে। এর জেরেই গত ডিসেম্বরে সংস্থাটির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্লাবগুলোকে অলাভজনক সংস্থা থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ক্রীড়া করপোরেশনে রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ক্লাবগুলো এই কাঠামোর বিরোধিতা করছে।
তাদের মতে, এটি এএফএ–এর গঠনতন্ত্রের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ক্লাবগুলো চলতি মাসের শুরুর দিকে ৫ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত শীর্ষ লিগের এক রাউন্ড ম্যাচ স্থগিতও করেছিল। এই ঘটনা আর্জেন্টিনার ফুটবল জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



