বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে চীনকে বেগ দিতে দেখে মুগ্ধ কোচ আন্তে মিলিচিক
বাংলাদেশের ফুটবলে চীনকে বেগ দিতে দেখে মুগ্ধ কোচ মিলিচিক

বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে চীনকে বেগ দিতে দেখে মুগ্ধ কোচ আন্তে মিলিচিক

বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলকে হারাতে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হবে—এমনটা হয়তো ভাবেননি চীনের ক্রোয়াট বংশোদ্ভূত কোচ আন্তে মিলিচিক। তুলনামূলকভাবে অসম শক্তির দল হলেও বাংলাদেশ নিজেদের সাধ্যমতো লড়াই করেছে এবং ঋতুপর্ণা চাকমাদের খেলায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, শিষ্যদের দারুণ প্রদর্শনীর পর প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারও।

চীনের কোচের প্রশংসা: ব্যক্তিগত দক্ষতায় মুগ্ধ

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে আসেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়েরা বিশেষ নজর কেড়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দলে কয়েকজন দারুণ ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছে। নাম্বার ৬ (মনিকা চাকমা), ৮ (মারিয়া মান্দা) এবং ১৭ (ঋতুপর্ণা চাকমা) খুব ভালো খেলেছে। বাংলাদেশের ওপর তেমন চাপ ছিল না, তারা চাপমুক্ত হয়েই ভালো খেলেছে।’

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের প্রতিক্রিয়া: উন্নতির প্রমাণ

অন্যদিকে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেছেন, ‘চীন সম্ভবত এশিয়ার সেরা দল, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা আমাদের হারিয়েছে—তাদের অভিনন্দন। আমার মনে হয়েছিল তারা হয়তো ম্যাচটিকে একপেশে করে ফেলবে, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ম্যাচের আগে মেয়েদের বলেছিলাম নিজেদের সেরাটা দিতে। তোমরা যা পারো, তা-ই দাও; নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। তোমরা যেমন, তেমনই থাকো এবং আমরা যা, সেটাই দেখাও।’

মেয়েদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমরা এখানে এসে রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকতে বা বলির পাঁঠা হতে আসিনি। আমি সে ধরনের কোচিং করাই না এবং আমার দলকেও সেভাবে খেলতে দিতে চাই না। আমার মনে হয় আজ রাতে মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে। সত্যিই কিছু উচ্চমানের খেলোয়াড় ও শক্তিশালী বেঞ্চসমৃদ্ধ একটি চমৎকার দলের বিপক্ষে এটি ছিল অসাধারণ প্রচেষ্টা। তাই মেয়েদের নিয়ে আমি আনন্দিত। প্রায় ৪০ মিনিট আমরা তাদের আটকে রাখতে পেরেছিলাম, এরপর কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলি এবং পরিবর্তন আনতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে মেয়েদের প্রচেষ্টায় আমি গর্বিত। তারা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, জার্সির সম্মান রেখেছে এবং প্রমাণ করেছে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’

দল নির্বাচনে ন্যায্যতা: রুপনার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য

নিয়মিত গোলকিপার রুপনাকে একাদশে না রাখার বিষয়ে বাটলার বলেছেন, ‘রুপনা দারুণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার উচ্চতা কম। আমি তো তাকে কোনও গ্রো ব্যাগে রেখে বাড়তি খাবার খাইয়ে আশা করতে পারি না যে সে ঘুম থেকে উঠে ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়ে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি সবসময় দল নির্বাচনে ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখি। রুপনার খেলার কোনও জন্মগত অধিকার নেই—মিলিরও নেই, স্বর্ণারও নেই।’

এই ম্যাচটি বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের ক্রমাগত উন্নতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করে মেয়েরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সংকেত দিয়েছে। কোচদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলের প্রতিটি সদস্যের দক্ষতা ও মনোবলই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।