খামেনি প্রশ্নে নীরবতা: ইরানের নারী ফুটবলারদের রাজনীতি এড়ানোর কৌশল
খামেনি প্রশ্নে ইরানের নারী ফুটবলারদের নীরবতা

খামেনি প্রশ্নে ইরানের নারী ফুটবলারদের রাজনৈতিক নীরবতা

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে ইরানের অংশগ্রহণ এবার মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে হঠাৎ করেই ইরান দলের ওপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হলো ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।

প্রেস কনফারেন্সে উত্তপ্ত প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত জবাব

গোল্ড কোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পূর্বে এক প্রেস কনফারেন্সে ইরান দলকে খামেনির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এক ইরানি সাংবাদিক ফারসি ভাষায় জানতে চান, খামেনির মৃত্যু বা তাকে নিহতের ঘটনার পর খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা কেমন। এই প্রশ্নটি অনুবাদ করতে গিয়ে এএফসি মিডিয়া অফিসার কিছুটা সময় নেন, যা ঘটনাটির গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করে।

ইরানের কোচ মার্জিয়া জাফারি এবং অধিনায়ক জাহারা গানবারি সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় জবাব দেন। তারা বলেন, 'দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমরা এখানে লড়তে এসেছি এবং আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপ। আমাদের পূর্ণ মনোযোগ এখন কেবল ফুটবল মাঠেই।' তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট, যদিও তাদের চেহারায় চাপের ছাপও লক্ষ্য করা গেছে।

টুর্নামেন্টে রাজনীতির প্রভাব ও নতুন অভিযোগ

এএফসি মিডিয়া অফিসার পরবর্তীতে মন্তব্য করেন যে ম্যাচের আগে শুধুমাত্র ফুটবল নিয়ে কথা বলা উচিত, যা দেখায় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও, সিডনিতে বসবাসরত ইরানি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর টিনা করদরোস্তামি একটি নতুন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে ইরান দলের সঙ্গে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের এজেন্ট ঢুকেছে, যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি।

গত এক সপ্তাহে ইরান দল নিয়মিত অনুশীলন চালিয়েছে এবং তাদের শৃঙ্খলায় কোনো ভাঙন দেখা যায়নি। তবে ইরানের ভেতরে গত কয়েক মাস ধরে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অনুশীলন চালানো সহজ ছিল না বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত মূল দলের খেলোয়াড়রা রাজনৈতিক বিষয়ে নীরব থেকেছেন এবং ফুটবলে মনোনিবেশ করেছেন।

দলের বাইরের খেলোয়াড়দের ভূমিকা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলে জায়গা না পাওয়া কয়েকজন খেলোয়াড় প্রকাশ্যে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এটি ইরান দলের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও মূল দল একতাবদ্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরানের নারী ফুটবলারদের উপর রাজনৈতিক চাপের একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রীড়া ও রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।