রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে মেসুত ওজিলের গাড়িবহর দুর্ঘটনা, সবাই নিরাপদ
মেসুত ওজিলের গাড়িবহর দুর্ঘটনা, সবাই নিরাপদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে মেসুত ওজিলের গাড়িবহর দুর্ঘটনা, সবাই নিরাপদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর একটি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রতিনিধি দলের সবাই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে তুরস্কের ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলকে বহনকারী বিমান ছেড়ে যায়। এই বিমান যাত্রার আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার সময় তাদের গাড়িবহর একটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মেসুত ওজিলসহ প্রতিনিধি দলের কোনো সদস্যই এই ঘটনায় আহত হননি এবং তারা নিরাপদে কক্সবাজার ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্প থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় গাড়িবহরের সামনে থাকা পুলিশ প্রটোকলের একটি গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি অবিলম্বে জব্দ করা হয়েছে। উখিয়ার শাহপরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিআইপি প্রটোকল অমান্য করে হঠাৎ করেই একটি অটোরিকশা গাড়িবহরের সামনে চলে আসায় এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

দুর্ঘটনার পরবর্তী অবস্থা

এই সংঘর্ষে অটোরিকশাটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, আহত চালককে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরের কার্যক্রম

দুর্ঘটনার আগে দিনভর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মেসুত ওজিলসহ তুরস্কের প্রতিনিধি দল। বিশেষ করে বিকেলে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন তিনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। সন্ধ্যায় তারা একটি ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন, যা এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই সফর ঘিরে কক্সবাজার জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা দুর্ঘটনার পরও কার্যকরভাবে বজায় ছিল। শেষ পর্যন্ত, দুর্ঘটনার ঘটনা সত্ত্বেও প্রতিনিধি দল নিরাপদে ঢাকা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।