ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, মার্কিন ভূখণ্ডে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) কোনোভাবেই অপমান করা যাবে না। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে এই শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
কানাডায় ভিসা বাতিলের ঘটনা
গত সপ্তাহে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে রওনা দিয়েও কানাডার বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল মেহদি তাজকে। পরে কানাডা জানায়, আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার তেহরানে এক সমাবেশে বিশ্বকাপে আইআরজিসিকেন্দ্রিক নিশ্চয়তা চাইলেন ইরানের ফুটবলপ্রধান।
ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে ফিরে আসার বিষয়ে মেহদি তাজ জানান, কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অসম্মানজনক আচরণের’ কারণে ইরানের প্রতিনিধিদল ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী পার্লামেন্টকে জানান, তাজ মাঝ আকাশে থাকার সময়ই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে কানাডা আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
বিশ্বকাপের আয়োজক ও ইরানের ম্যাচ
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকো ও কানাডাও যৌথ আয়োজক। তবে গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে (লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল)। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে মেহদি তাজ বলেছেন, ‘আমাদের সফরের সময় তারা যেন আমাদের দেশের প্রতীক—বিশেষ করে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি বাহিনীকে অপমান করতে না পারে, এ বিষয়ে আমরা একটা নিশ্চয়তা চাই।’
এই নিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জড়িত, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি (গ্যারান্টি) তাদের খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যদি এমন নিশ্চয়তা থাকে এবং সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নেওয়া হয়, তাহলে কানাডায় যা ঘটেছিল, তেমন ঘটনা আর ঘটবে না।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন। তবে স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
রুবিওর এই মন্তব্যের বাস্তবায়ন ঘটলে ইরানের ফুটবলপ্রধান মেহদি তাজেরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অনিশ্চিত। ইরানের ফুটবল প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি ইসফাহান প্রদেশে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ (সাময়িকভাবে স্থগিত) চলছে, তাতে আইআরজিসি সামনের কাতারে আছে।
ফিফার ভূমিকা
বিশ্বকাপের মূল আয়োজক ফিফা, বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেহদি তাজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি, যেটা আমরা অর্জন করে নিয়েছি। আমাদের আয়োজক হলো ফিফা, মিস্টার ট্রাম্প বা আমেরিকা নয়। তারা যদি আমাদের আতিথেয়তা দিতে চায়, তবে তাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে আমাদের সামরিক বাহিনীকে কোনোভাবেই অপমান করা যাবে না।’
ইরানের ‘মানসিক শান্তির জন্য’ আইআরজিসি নিয়ে গ্যারান্টি জরুরি বলে জানান তাজ। ২০ মে জুরিখে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম।



