ফিফা কংগ্রেসের সমাপনী দিনে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইসরায়েলি ফুটবল কর্মকর্তা বাসিম শেখ সুলেমানের সঙ্গে এক ফ্রেমে ছবি তুলতে এবং হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিব্রিল রাজুব।
কংগ্রেসের ঘটনা
বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের মঞ্চে রাজুব ও সুলেমান দুজনই ফিফা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এরপর ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো দুই দেশের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিতে তাঁদের দুজনকে নিজের পাশে এসে দাঁড়ানোর আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু রাজুব সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় ইনফান্তিনো তাঁকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা (ফিলিস্তিনিরা) চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
রাজুবের অবস্থান
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে জিব্রিল রাজুব বলেন, ‘ফিলিস্তিনে যা ঘটছে, তা অবর্ণনীয় এবং ভয়াবহ। গাজার সব ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, শত শত অ্যাথলেট ও ক্রীড়া–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করা হয়েছে। আমি মনে করি, এখন সুবিচার করার সময় এসেছে।’
ইসরায়েলি প্রতিনিধির আচরণের সমালোচনা করে ফিলিস্তিনের ফুটবলপ্রধান বলেন, ‘যিনি ইসরায়েলের পক্ষে কথা বললেন, তিনি আমাদের ভোগান্তি বা বর্তমান পরিস্থিতির দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই করেননি। এমন একজন মানুষের সঙ্গে আমি কীভাবে হাত মেলাতে বা ছবি তুলতে পারি?’
ফিলিস্তিনের প্রতিবাদ
পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে অবস্থিত ফুটবল ক্লাবগুলোকে ইসরায়েলি লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে সরব ফিলিস্তিন। ফিফা এ বিষয়ে ইসরায়েলকে কোনো শাস্তির আওতায় না আনায় সম্প্রতি কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করেছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।
এমনকি ২০২৪ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও আটটি ইসরায়েলি ক্লাবকে ‘ঔপনিবেশিক বসতিতে’ খেলার দায়ে চিহ্নিত করে ফিফাকে মানবাধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।



