মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল বসুন্ধরা কিংস
মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল বসুন্ধরা কিংস

মুজাফফরভের দারুণ এক গোলে জয়ের স্বপ্ন দেখা মোহামেডান শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টই হারিয়েছে। অন্যদিকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও দোরিয়েলতনের গোলে বসুন্ধরা কিংস জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো রাকিব-জিকোরা।

ম্যাচের মূল ঘটনা

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই জয়ে লিগ টেবিলে ঘাড়ে শ্বাস ফেলা আবাহনীর সঙ্গে ব্যবধান ৬ পয়েন্টে তুলে নিলো বসুন্ধরা কিংস। ১৫ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট তাদের। এক ম্যাচ কম খেলা আবাহনীর পয়েন্ট ২৮। নতুন ভারপ্রাপ্ত কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া মোহামেডান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে।

প্রথমার্ধের লড়াই

কিংসের বিপক্ষে শুরু থেকে ভালো ফুটবল খেলছিল মোহামেডানই। ১৮ মিনিটে আরিফ হোসেনের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন সৌরভ দেওয়ান। গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো বিপদ বুঝতে পেরে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পথ আগলে দাঁড়ান। তাড়াহুড়া করে সৌরভের নেওয়া শট তার গায়ে লাগে। ভালো সুযোগ নষ্টের হতাশায় পুড়তে হয় মোহামেডানকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২৮ মিনিটে মোজাফ্ফর মোজাফ্ফরভের দৃষ্টিনন্দন গোলে এগিয়ে যায় সাদাকালো জার্সিধারীরা। কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের চার্জে বল হারানোর আগে সাইফুল হাসান কোনোমতে টোকা দিয়ে বাড়িয়ে দেন। বাইলাইনের একটু ওপরেই বল পেয়ে যান মোজাফ্ফরভ। উজবেকিস্তানের এই মিডফিল্ডার জিকোর পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। দূরূহ কোণ থেকে গোল খাওয়ায় হতাশায় মাথায় হাত ওঠে জিকোর।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কিংস আক্রমণে ফিরে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা রাকিব হোসেন বাইলাইনের একটু ওপর থেকে কাটব্যাক করেন বক্সে, ডান পায়ের নিখুঁত প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফাহিম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ শাণানোর চেষ্টা করতে থাকে। ৫৯ মিনিটে মোজাফ্ফরভের কর্নার লাফিয়ে কর্নার করে দেন জিকো। একটু পর পাল্টা আক্রমণে ওঠা কিংসের ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমনের শট গোলকিপারে সুজনের পা ছুঁয়ে পোস্টের বাইরে যায়। সেই কর্নারও বিপদের কারণ হয়ে ওঠেনি মোহামেডানের জন্য।

আড়াল ভেঙে দোরিয়েলতন জ্বলে ওঠেন ৬৮ মিনিটে। নিজেদের অর্ধ থেকে উড়ে আসা লংস পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম দিয়ে দিয়ে আক্রমণে ওঠে ফাহিম। তার ক্রসে ডান পায়ের ছোঁয়ায় জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। লিগে দোরিয়েলতনের গোল হলো ১৬টি।

৭৮ মিনিটে ছোট কর্নারের পর সোহেল রানার ক্রসে ছোট বক্সের একটু ওপরে থাকা ইমন সাইড ভলি করেছিলেন, কিন্তু শট ঠিকঠাক না হওয়ায় দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় কিংসের। একটু পর মোহামেডানের আরিফের দুর্বল ভলি গ্লাভসে জমান জিকো।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রাকিবের কাটব্যাকে দোরিয়েলতনের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে কর্নার করে দেন সুজন হোসেন। তাতে গোল ব্যবধান না বাড়লেও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়েছে।