যশোর শিক্ষা বোর্ডের আলোচিত দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণকারী প্রেস মালিক শেখ শরিফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এসএম নূরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শরিফুল ইসলাম যশোরের ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার।
গত ২ এপ্রিল এ মামলার ১১ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগে জানা গেছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের ২৫টি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের যশোর বিআইএসই শাখায় পরিচালিত হয়। এর মধ্যে একটি হিসাবের স্বাক্ষরকারী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত ওই হিসাব থেকে ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দিয়ে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকার স্থলে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ১৬টি চেক আসামি আব্দুস সালাম গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট ২২টি চেক শেখ শরিফুল ইসলাম কয়েকজন কর্মচারীর সহায়তায় গ্রহণ করেন। এরপর চেকগুলোতে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে লিখে উত্তোলন করেন তারা। এভাবে আসামিরা পারস্পরিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল টাকার অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।
মামলার প্রক্রিয়া
এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। এ মামলা তদন্ত শেষে ওই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের উপপরিচালক আল আমিন। চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদন করা হয় বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমির হোসেন ও সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজার।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২ জুন মামলার ধার্য দিনে ১০ আসামির উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলার আসামি শেখ শরিফুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আসামি শেখ শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক থেকে পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।



